মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকার এ ঘটনায় রশিদুল ও তার ভগ্নিপতি বছির আহত হন। তাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে রশিদুল মারা যান। সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির জানান, এ ঘটনায় সাঈদ আল সিয়াম (১৯) নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ ও জনপ্রতিনিধি জানান, রশিদুল ইসলাম বগুড়া শহরের রহমাননগর এলাকার মৃত জাহেদুল ইসলাম লালুর ছেলে। তিনি এলাকার জব্বার ক্লাব মোড়ে ফ্লাক্সিলোডের ব্যবসা ছাড়াও মৃতকে গোসল করানো, রক্তদানসহ বিভিন্ন সমাজ সেবামূলক কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে রশিদুলের ভাগ্নে শান্ত (১২) শহরের জলেশ্বরীতলায় টাউন স্কুল মাঠে খেলছিল। এ সময় কয়েকজন কিশোর তাকে মারধর করে। ওই পথ দিয়ে রিকশায় যাওয়ার সময় রশিদুল ভাগ্নেকে মারধর করা হচ্ছে দেখে এগিয়ে যান। এ সময় তার ভগ্নিপতি বছিরও সেখানে আসেন। তারা প্রতিবাদ করলে মালতিনগর পাইকারপাড়ার আতিউর রহমানের ছেলে সাঈদ আল সিয়াম ও তার বন্ধু শামিউল ছুরি বের করে রশিদুলের পিঠে এবং বছিরের হাতে ও উরুতে আঘাত করে। তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে সিয়াম ও শামিউল পালিয়ে যায়।
পরে ছুরিকাহত শ্যালক রশিদুল ও ভগ্নিপতি বছিরকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে রশিদুল মারা যান।
বগুড়া পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আরিফুর রহমান জানান, ভাগ্নেকে মারপিটের প্রতিবাদ করতেই গিয়েই মামা রশিদুল খুন হয়েছেন। রশিদুল রক্তদান, মৃতদের গোসল, করোনায় মৃতদের দাফন করানো‘সহ নানা সেবামূলক কাজ করতেন। করোনার সময় তিনি মোটরসাইকেল বিক্রি করে অসহায় মানুষদের খাদ্য সহায়তা দেন।
সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, ঘটনার পরপরই প্রধান হামলাকারী সিয়ামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপরজনকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। সন্ধ্যায় এ খবর পাঠানো কোনও পর্যন্ত মামলা হয়নি।