খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পঞ্জিকা অনুসারে মঙ্গলবার পয়লা অগ্রহায়ণ। দিনটি তারা নবান্ন উৎসব হিসেবে উদযাপন করেন। প্রতিবছর এ উৎসবকে ঘিরে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলী গ্রামের বটতলায় মাছের মেলা বসে।
আর উথলী, রথবাড়ি, ছোট ও বড় নারায়ণপুর, ধোন্দাকোলা, সাদুল্লাপুর,
বেড়াবালা, গরীবপুর, দেবীপুর, গুজিয়া, বাকশন, রহবলসহ ২০টি গ্রামের মানুষের ঘরে ঘরে উৎসবের আয়োজন হয়। প্রতি বাড়িতেই মেয়ে-জামাইসহ স্বজনদের দাওয়াত দেওয়া হয়। অতিথি ও স্বজনদের নবান্নের মেলা থেকে কেনা বড় মাছ ও নতুন সবজি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।
বগুড়ার মোকামতলা-জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে মেলায় ঘুরে দেখা গেছে, শতাধিক দোকানে ইলিশ, রুই, কাতল, মৃগেল, ব্রিগেড, গ্রাস কার্প, সিলভার, চিতল, বাঘা আইড়, বোয়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিক্রি হচ্ছে। এসব মাছ রাজশাহী, জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এনেছেন পাইকাররা। একদিনের এই মেলায় বিল ও নদীর মাছের পাশাপাশি স্থানীয় পুকুরের মাছও বিক্রি হয়। বছর জুড়ে বড় প্রজাতির মাছ এই মেলায় তুলে বিক্রি করেন চাষিরা। ওজনভেদে প্রতিটি মাছ তিন থেকে ২১ কেজি পর্যন্ত হয়। ২১ কেজি ওজনের সবচেয়ে বড় মাছটির দাম হাকা হয় প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা।
মেলায় আকারভেদে রুই ৩০০-৬০০, কাতল ৩০০-৭০০, ব্রিগ্রেড ২৫০-৫০০, গ্রাস কার্প ৬০০-৭০০, সিলভার ২৫০-৬০০, চিতল ৫০০-৮০০, বাঘা আইড় ৮০০-১০০০, বোয়াল ৫৫০-৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।
দাম অনেকটা স্বাভাবিক বলে জানান ক্রেতা ও বিক্রেতারা।
স্থানীয় নারায়ণপুর গ্রামের বলরাম মোদক বলেন, ‘যুগ যুগ ধরে অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম দিন এই মাছের মেলা বসে। দিন যতই যাচ্ছে এই মেলার ঐতিহ্য ততই বাড়ছে।’
জয়পুরহাট থেকে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসা বিউটি রানী দত্ত বলেন, ‘মেলার নাম শুনলেও এবারই প্রথম এসেছি। মেলায় এসে বিভিন্ন ধরনের বড় বড় মাছ দেখছি। ঘুরে ফিরে আনন্দ লাগছে।’
স্থানীয় পাইকপাড়া গ্রামের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া বলে, ‘মেলায় বড় মাছ দেখতে পেয়ে খুব ভালো লাগে।’
উথলী মাছের মেলার ইজারাদার আল আমিন সরকার বলেন, ‘একদিনের এই মাছের মেলায় কোটি টাকার ওপরে মাছ বিক্রি হয়ে থাকে। ভোর থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে কেনাকাটা।’
মেলায় আসা শিবগঞ্জ থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান জানান, ঐতিহ্যবাহী মেলা সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গোটা শিবগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেছেন।
অন্যদিকে, ঐতিহাসিক মহাস্থান হাটবাজারেও বসে মাছের মেলা। নন্দীগ্রাম উপজেলার রণবাঘা ও ওমরপুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি মাছের দোকান।