রাজশাহীর দুর্গাপুরে পৌরসভা নির্বাচনে মিছিল বের করাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেন ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হাসানুজ্জামান সান্টুর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। এ সময় পুলিশের একজন কনস্টেবলসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলা সদর মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুনরায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নির্বাচনি আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আহতরা হলেন—পুলিশ কনস্টেবল সোহেল রানা, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেনের প্রচারণায় অংশ নেওয়া কর্মী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বদরুল ইসলাম তাপস, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরিফ, পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবু সুফিয়ান হৃদয়, পৌর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাইনুল ইসলাম, পৌর ছাত্রলীগের সদস্য মুন্না ও যুবলীগ নেতা মাইনুল ইসলাম রতন। আহতদের মধ্যে পুলিশ কনস্টেবল সোহেল রানাকে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, সোমবার বিকাল ৫টার দিকে দুর্গাপুর পৌরসভা নির্বাচনে প্রচারণার অংশ হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসানুজ্জামান সান্টু তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে নার্গিস সিনেমা হলমাঠ থেকে একটি মিছিল বের করে সিংগা বাজারের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড ঘুরে ফাজিল মাদ্রাসা মোড় হয়ে পুনরায় নার্গিস সিনেমা হলমাঠে ফিরছিলেন। একই সময় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেনের কর্মী-সমর্থকরা আরও একটি মিছিল নিয়ে উপজেলা মোড়ের কাছে পৌঁছালে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হাসানুজ্জামান সান্টুর মিছিলের সামনাসামনি পড়ে। মিছিল বের করাকে কেন্দ্র করে বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে উপজেলা মোড়ে তোফাজ্জল ও সান্টুর সমর্থকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করে উভয় পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র তোফাজ্জল হোসেন দাবি করেন, ‘নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করতে স্বতন্ত্র প্রার্থী সান্টুর লোকজন পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মিছিল নিয়ে আমার প্রচারণা মিছিলের মধ্যে অতর্কিতভাবে ঢুকে পড়ে। এ সময় আমার কর্মী-সমর্থকরা তাদের বাধা দিতে গেলে আমার কর্মীদের লাঞ্ছিত করা হয়। বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।’
স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসানুজ্জামান সান্টু দাবি করেন, ‘নির্বাচনি প্রচার প্রচারণার অংশ হিসেবে আমি আমার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করি। মিছিল নিয়ে উপজেলা মোড়ের কাছে পৌঁছালে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর লোকজন পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আমার মিছিলে বাধা দেয়। এ সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষের লোকজনকে সরিয়ে দেয়।’
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলী জানান, নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেন ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হাসানুজ্জামান সান্টুর কর্মীসমর্থকরা মিছিল বের করেন। উভয় প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা মিছিল নিয়ে উপজেলা মোড়ের কাছে পৌঁছালে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মৃদ লাঠিচার্জ করা হয়। এ সময় পড়ে গিয়ে পুলিশ কনস্টেবল সোহেল রানা সামান্য আহত হন।
ওসি হাশমত আলী আরও বলেন, ঘটনার পরপরই পুনরায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পৌর সদরের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তাছাড়া নির্বাচনি আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে টহল জোরদার করা হয়েছে।