বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক তাকবির ইসলাম খানকে চাপাতি দিয়ে আঘাতকারী আল আমিন (২৪) হত্যার দায় স্বীকার করেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) বিকালে সে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ শাহরিয়ার তারিকের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তাকে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত করার পর বৃহস্পতিবার সকালে তাকে কাহালু থেকে গ্রেফতার করা হয়। সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির এ তথ্য দিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, আল-আমিন বগুড়ার কাহালু উপজেলার সাঁকোহালী গ্রামের আক্কাস আলীর ছেলে। সে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সম্মান শেষ বর্ষের ছাত্র। সে নৃশংস ও আলোচিত এ হত্যা মামলার প্রধান আসামি ওই কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রউফের সহযোগী। ইতোমধ্যে আবদুর রউফকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে নিহত তাকবিরের মা আফরোজা ইসলামের সদর থানায় দায়ের করা মামলায় আল-আমিনের নাম ছিল না। শহরের সাতমাথা এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সে চাপাতি দিয়ে তাকবিরকে আঘাত করে।
সদর থানার ওসি জানান, বৃহস্পতিবার সকালে কাহালু থেকে আল-আমিনকে গ্রেফতার করা হয়। থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে রউফের সঙ্গে থেকে হামলার কথা স্বীকার করে ও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হয়। বিকালে তাকে বগুড়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। সে আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। কী কারণে ও কারা এ হামলায় জড়িত তা আদালতকে জানিয়েছে সে। আদালত আল-আমিনকে বগুড়া জেল হাজাতে পাঠিয়েছেন।
এজাহার সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ১১ মার্চ বগুড়ার ধুনটে মোটরসাইকেলে ধাক্কা লাগা নিয়ে তাকবির ইসলাম খানের সঙ্গে জেলা ছাত্রলীগ সদস্য জাহিদ হাসানের বাকবিতণ্ডা হয়। এ ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা আবদুর রউফ ও তার লোকজন জাহিদ হাসানের পক্ষ নেন। রাত ৯টার দিকে শহরের সাতমাথায় বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে রউফ ও তার পক্ষের নেতাকর্মীরা তাকবির ও তার সমর্থকদের ওপর হামলা করলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় মারপিট ও ছুরিকাঘাতে তাকবির গুরুতর আহত হন। তাকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উভয়পক্ষের আহত হন আট জন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকবির ১৬ মার্চ বিকাল ৩টার দিকে আইসিইউতে মারা যান। এর আগে ১৩ মার্চ তাকবিরের মা শহরের মালতিনগর দক্ষিণপাড়ার জহুরুল ইসলাম দুলালের স্ত্রী আফরোজা ইসলাম সদর থানায় ছাত্রলীগ সরকারি আজিজুল হক কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক আবদুর রউফকে প্রধান আসামি করে সাত জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। নামীয় অন্য আসামিরা হলো– জাহিদ হাসান, আনোয়ার হোসেন, মো. তারেক, বিধান চন্দ্র মোহন্ত, মো. নিশাদ ও মো. আরমান।
সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির আরও জানান, মৃত্যুর আগে তাকবির ভিডিও সাক্ষাৎকারে তার ওপর হামলার জন্য বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা আবদুর রউফকে দায়ী করে গেছেন। হামলার মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করতে বুধবার আদালতে আবেদন করা হয়েছে। এদিকে তাকবির হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবদুর রউফের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, জেলা ছাত্রলীগ তাদের যুগ্ম সম্পাদক তাকবির ইসলাম খান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের গ্রেফতার দাবি করেছে। এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার বিকালে শহরের টেম্পল রোডে দলীয় কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি নাইমুর রাজ্জাক তিতাস ও সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার রায় এ সভা ডাকেন।