একজনকে গুলির পর কুপিয়ে হত্যা, আরেকজনকে অপহরণ

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় এক যুবককে প্রকাশ্যে গুলির পর কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। এ সময় একজনকে অপহরণ করে নিয়ে যায় তারা। বুধবার (২৪ মার্চ) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চল চৌমাদিয়া বাজারে এই ঘটনা ঘটেছে।

নিহত যুবকের নাম ইব্রাহীম দেওয়ান (৩৫)। তিনি বাঘা উপজেলার চরাঞ্চল চৌমাদিয়া গ্রামের হাবু দেওয়ানের ছেলে। অপহৃতের নাম মোশাররফ হোসেন (৩৭)। চরাঞ্চলের আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে কথিত ‘রশিদ বাহিনী’র লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা অবস্থা বিরাজ করছে।
পুলিশ এর সত্যতা স্বীকার করেছে।

নিহতের ঘটনায় ১১ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের ভাই সোলাইমান হোসেন বাদি হয়ে বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) বাঘা থানায় এই হত্যা মামলা দায়ের করেন। এদিকে চরবাসীর পক্ষ থেকে পদ্মার চরাঞ্চলে একটি ক্যাম্প স্থানের দাবি জানানো হয়েছে। অপহৃতের বিষয়ে কোনও তথ্য জানা সম্ভব হয়নি।

রাজশাহীর বাঘা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল বারী জানান, চৌমাদিয়া চরাঞ্চলের আধিপত্য নিয়ে বেশ কিছুদিন থেকে রশিদ ও জিয়া বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। বুধবার রাতে চৌমাদিয়া গ্রামের রেজ্জাকের বাড়ির পাশে বসে ছিল জিয়া বাহিনীর সদস্য ইব্রাহীম ও মোশারফ। সেখানে রশিদ বাহিনীর লোকজন তাদের ওপর হামলা করে। এ সময় ইব্রাহীমকে প্রথমে কুপিয়ে ও গুলি করে তাকে জখম করে। পরে তারা মোশারফকে তুলে নিয়ে যায়।

আবদুল বারী আরও জানান, স্থানীয়রা রাত সোয়া ১১টার দিকে ইব্রাহীমের লাশ উদ্ধার করে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত্ ঘোষণা করেন। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই সোলাইমান হোসেন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।

বাঘা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. সোলাইমান জানান, হাসপাতালে পৌঁছার অনেক আগেই ইব্রাহীন নামে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

বাঘা উপজেলার চৌমাদিয়া চরের ২ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বর আবদুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন থেকে আবদুর রশিদ ও জিয়ার ক্যাডার বাহিনী এলাকায় অবৈধ ব্যবসা করে আসছে। এই অবৈধ ব্যবসার বিষয়ে কেউ মুখ খুললে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়।

ফলে ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলে না। তবে ইব্রাহীম এর প্রতিবাদ করেন। এ কারণে সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ দিতে হলো ইব্রাহীমকে।

এ বিষয়ে পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম জানান, পদ্মার চরে প্রায় অঘটন ঘটছে। এই পদ্মার মধ্যে ১৫টি চর রয়েছে। এই চরগুলো ভারতীয় সীমান্ত এলাকা। উপজেলা সদর থেকে কোনও কোনও চর প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে। এখানে কোনও অঘটন ঘটলে পুলিশ সহজে যেতে পারে না। যেতে হয় নৌকা যোগে। তাই এখানে একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানিয়ে বাঘা থানায় আবেদন দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে একই এলাকায় মজনু হোসেন দর্জির কলাবাগানের সাথে দিলা ইসলাম ব্যাপারির জমি রয়েছে। সেই জমিতে আগাছা পরিষ্কার করার জন্য দিলা ইসলাম ব্যাপারি আগুন দেয়। সেই আগুনে মজনু দর্জির কলা বাগানের ক্ষতি হয়। এ নিয়ে উভয়পক্ষের দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ৪ জন গুলিবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হন।