রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে একদিনে আরও ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে আট জন করোনা পজিটিভ ছিলেন। বাকিরা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে মারা যাওয়া এই রোগীদের মধ্যে নয় জন রাজশাহীর। বাকিদের মধ্যে চাঁপাইনবাগঞ্জের চার জন, নাটোরের দুই ও নওগাঁর দুই জন রয়েছেন।
মারা যাওয়াদের মধ্যে আট জন পুরুষ ও নয়জন নারী। তাদের মধ্যে পাঁচ জনের বয়স ৬১ বছরের উপরে। বাকিদের মধ্যে ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে তিন জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ছয় জন, ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সের দুই জন এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন মারা যান। এ নিয়ে চলতি মাসের গত ২৬ দিনে (১ জুন থেকে ২৬ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত) এ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেলেন ২৯১ জন। এর মধ্যে রাজশাহীর ১৩৬ জন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১০১ জন রয়েছেন। এর আগে সবচেয়ে বেশি মারা যান ২৪ জুন ১৮ জন এবং সবচেয়ে কম ১২ জুন চার জন।
রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, এ হাসপাতালে কোভিড ইউনিটে মৃত্যুহার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ২৯ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৭, মার্চে ৩১, এপ্রিলে ৭৯ ও মে মাসে ১২৪ জনের মৃত্যু হয়। আর চলতি মাসের ২৬ দিনেই মারা গেছেন ২৯১ জন।
তিনি আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫২ জন। এর মধ্যে রাজশাহীর ৩১ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৮, নাটোরের ছয়, নওগাঁর তিন ও পাবনার চার জন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৩৪ জন। হাসপাতালে বেড়েছে রোগীর সংখ্যা। শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ৩৫৭ বেডের বিপরীতে মোট চিকিৎসাধীন রোগী আছেন ৪৩১ জন। যা আগের দিন ছিল ৪২৩। অতিরিক্ত রোগীদের মেঝে ও বারান্দায় রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কোভিড ইউনিটে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে রাজশাহীর ২৯৩ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫৬ জন, নাটোরের ৩৩ জন, নওগাঁর ৩৪ জন, পাবনার নয় জন, কুষ্টিয়ার তিন জন, চুয়াডাঙ্গার একজন, দিনাজপুরের একজন ও ঢাকার একজন রয়েছেন। আইউসিইউতে ভর্তি আছেন ২০ জন।