চলনবিলের ৮ উপজেলা প্লাবিত, বাঁধ কাটার অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রাউতারা স্লুইচ গেট সংলগ্ন অস্থায়ী রিং বাঁধটি শনিবার (৩ জুলাই) ভোরে কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে পানিতে ডুবে গেছে শাহজাদপুরসহ চলনবিল অঞ্চলের আট উপজেলার প্রায় ৪৫ হাজার হেক্টর জমি। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলো হলো—সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, পাবনার চাটমোহর, ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া, নাটোরের গুরুদাসপুর, সিংড়া ও বড়াইগ্রাম।

রাউতারা, পোতাজিয়া ও চরাচিথুলিয়া গ্রামের গোলাম আজম, নীরব হোসেন, আব্দুল আলীমসহ বেশ কয়েকজন বলেন, গত দুই দিন ধরে বন্যার পানি বাড়ছে। এই সুযোগে শনিবার ভোরে এসব এলাকার মৎস্য শিকারিরা অধিক পরিমাণে মাছ আহরণ ও শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌযানের মাঝি-মাল্লারা তাদের আয় বাড়াতে প্রতি বছরের মতো এরারও দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অস্থায়ী এ বালুর বাঁধটি কেটে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, বাঁধের পাইলিংয়ের খুঁটি ও বালুর বস্তা লুট করে নিয়ে গেছে স্থানীয়রা।

পানিতে ডুবে গেছে আট উপজেলার প্রায় ৪৫ হাজার হেক্টর জমি

তারা আরও বলেন, সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড গত ৩০ বছর ধরে ফসল রক্ষার নামে বালু দিয়ে এ বাঁধ নির্মাণ করে। গত ২৮ জুন বাঁধের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ বাঁধটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বাঁধের পাহারায় নিয়োজিত জনবল সরিয়ে নেয়। এরপর থেকেই বাঁধটি কেটে দেওয়ার জন্য মৎস্য শিকারি ও নৌযান শ্রমিকরা পাঁয়তারা শুরু করে।

শনিবার রাতে সামান্য বৃষ্টি ও পানি বাড়ার সুযোগে বাঁধটি কেটে দেয় তারা। এর ফলে মুহূর্তে এ বাঁধের অন্তত ২০০ মিটার এলাকা ধসে যায়। সকালে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৫০০ মিটারে দাঁড়ায়। এই সুযোগে স্থানীয়রা খুঁটি ও বালুর বস্তা লুটপাট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ তাদের।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয়রা বলেন, বন্যার পানির চাপেই বাঁধটি ভেঙে গেছে। ফলে তারা খুঁটি ও বস্তা সংগ্রহ করে বাড়ির ভাঙন রোধে কাজে লাগাচ্ছে। এ বছর বন্যা দেরিতে হওয়ায় ফসল আগেই উঠে গেছে। এর মধ্যে বাঁধের মেয়াদও শেষ হয়ে বিল উঠে গেছে। ফলে কর্তৃপক্ষ বাঁধটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করায় নিজেদের সুবিধার্থে তা কেটে দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ইরি বোরো ফসল রক্ষার্থে শাহজাদপুরের পোতাজিয়া ইউনিয়নের রাউতারা স্লুইচ গেট সংলগ্ন লোহাইট অস্থায়ী রিং বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। ধান কাটা হয়ে যাওয়ায় পাহারা সরিয়ে নেওয়ায় স্থানীয়রা বাঁধটি কেটে দিয়েছে। আমরা ওখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। এটা বাস্তবায়ন হলে এই সমস্যা আর থাকবে না। 

তিনি আরও জানান, সিরাজগঞ্জ জেলায় ৮০ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রয়েছে। এই জেলার কোথাও ঝুকিপূর্ণ বাঁধ নেই।