কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর সিটি হাটে পশু কেনাবেচা শুরু হয়েছে। কিন্তু রবিবার (১১ জুলাই) সাপ্তাহিক হাটে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত না করে পশু কেনাবেচা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্রেতা-বিক্রেতারা বলছেন, হাটে প্রবেশের মুখেই ছিল কেবল স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার কড়াকড়ি। ভেতরে এসবের কোনও বালাই ছিল না। অন্যদিকে কোরবানির পশুর সরবরাহ ভালো থাকলেও বিক্রেতার চেয়ে ক্রেতা ছিল কম। বিক্রেতারা পশু নিয়ে অপেক্ষা করেছেন, কিন্তু সেই প্রত্যাশা অনুযায়ী ক্রেতার দেখা পাননি। এতে করে মলিন মুখে দাঁড়িয়ে বিক্রেতাদের অনেকেই হতাশা প্রকাশ করছেন।
গরু ব্যবসায়ী জসিমউদ্দীন জানান, তিনি জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে গরু কিনে হাটে নিয়ে বিক্রি করেন। ঈদের এই সময় হাট জমজমাট থাকে। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের ভিড় থাকে। কিন্তু এবার গরুর সরবরাহ ভালো থাকলেও ক্রেতারা এখনও হাটে তেমন আসছে না। যারা আসছেন তারাও তেমন দাম বলছেন না।
অতীতের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি জানান, এসময় বাইরের বড় বড় ব্যবসায়ীরা হাটে আসেন। পছন্দের গরু দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করেন। কিন্তু এবার এদের সংখ্যাও কম মনে হচ্ছে।
এদিকে, গরুর সরবরাহ বাড়তে থাকায় হাটে জনসমাগম বেশি থাকছে। হাটের প্রবেশ পথে ইজারাদার স্বাস্থ্যবিধি মানতে মাইকিং করছেন। কিন্তু হাটের ভেতরে স্বাস্থ্যবিধি মানার তেমন কোনও নজির চোখে পড়েনি। ছিল না সামাজিক দূরত্বের কোনও বালাই। অধিকাংশ মানুষের কাছে মাস্ক থাকলেও তা ছিলো নাকের নিচে।
ক্রেতা রাকিবুজ্জামান রকি জানান, ঈদের এক সপ্তাহ আগেই তারা কোরবানির পশু কিনে থাকেন। এবারও এক সপ্তাহের আগেই এসেছেন। হাটে পশুও ভালো আছে। গরুহাটে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করাটা খুবই কঠিন বলে মনে করেন তিনি। এখানে যারা বিক্রেতা আছেন, তাদের একটা বড় অংশ এ বিষয়ে সচেতন না বলেও মন্তব্য করেন রকি। তাদের কাছে মাস্ক থাকলেও তা থাকছে নাকের নিচে। এরমধ্যে আবার বৃষ্টি হয়েছে। চারিদিকে কাঁদা। ভাগাড়ের দুর্গন্ধ। সবমিলিয়ে হাটের পরিবেশ মোটেও সুস্থ কিছু নয় বলে জানান তিনি।
এবার গতবারের চেয়ে পশুর দাম তুলনামূলক বেশি। মাঝারি আকারের গরু কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। তবে বড় আকারে গরু কিনতে হলে এক লাখ ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে। তারও বড় গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে তিন থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত।
হাটে এসে গরু কিনে নিয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে কথা হয় গোদাগাড়ী উপজেলার শিবসাগর এলাকার রুবেলের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সাত ভাগে এক লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে একটি কোরবানির গরু কিনেছি। কিন্তু আকার অনুযায়ী গরুর একটু দাম বেশি পড়ে গেছে বলে মনে হয়। পরবর্তীতে গরুর দাম কম-বেশি হতে পারে বলে ধারণা তার।
জানা যায়, সপ্তাহের প্রতি রবি ও বুধবার সাধারণ হাট বসে। এবার রাজশাহীতে অনলাইনেও কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয় চলছে।
রবিবার হাটে দায়িত্ব পালন করেছেন নগরীর শাহ মখদুম থানার পুলিশ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান মনি। তিনি বলেন, আমরা কয়েকজন মিলে এখানে দায়িত্ব পালন করেছি। যতটা সম্ভব সামজিক দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করেছি। ক্রেতা-বিক্রেতারা সচেতন না হলে স্বাস্থ্যবিধি মানা কষ্টসাধ্য হবে বলে মত তার।
তবে সার্বিক বিষয়ে জানতে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আবু আসলামের মোবাইলফোনে একাধিকবার কল করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শরিফুল হক বলেন, আগামী ১৪ জুলাই কোরবানি হাটের বিষয় নিয়ে প্রাণিসম্পদ বিভাগের সঙ্গে বৈঠক আছে। সেখানে সরকারি যেসব নির্দেশনা আসবে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করে পরবর্তীতে স্বাস্থ্যবিধিসহ অন্যান্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।