আদালতে জবানবন্দি, ৭ বছর পর ফিরলো গুম হওয়া যুবক

সাত বছর আগে মো. শামীম (২৬) নামে এক যুবককে গুমের ঘটনায় করা মামলায় সাড়ে চার মাস জেল খেটেছেন আজিজার রহমান (৩১) নামে এক দোকান কর্মচারী। এ ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন আজিজার। এরই মধ্যে দেখা গেলো গুম হওয়া যুবক এলাকায় সাইকেল চালিয়ে বেড়াচ্ছেন। বগুড়া সদরের কর্ণপুর গ্রামের ঘটনা এটি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধু ব্যবসায়ী মো. শামীম সাত বছর আগে গুম হয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। তিনি মায়ের পরামর্শে ভারতে আত্মগোপন করলেও এ ব্যাপারে তার বন্ধু দোকান কর্মচারী আজিজার রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলায় জেল খেটে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। তবে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরই মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা আজিজারের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেন।

সোমবার (০৯ আগস্ট) সকালে সাইকেল চালিয়ে আজিজার রহমানের গ্রামে যান শামীম। এ সময় তাকে আটকের চেষ্টা করে আজিজারের স্বজনেরা। তিনি পালিয়ে থানায় গিয়ে উল্টো হামলার অভিযোগ করেন। এ নিয়ে এলাকায় তুলকালাম অবস্থার সৃষ্টি হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শামীমকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

আজিজার বলেন, শামীমের কাছে এক লাখ টাকা, একটি বাইসাইকেল ও ২৬ হাজার টাকা মূল্যের মোবাইল ফোন পাই। ২০১৫ সালের ২ জানুয়ারি শামীমকে এসব ফেরত দিতে বললে বাড়ি যায়। এরপর তার মা স্বর্ণা বেগম সদর থানায় ছেলেকে গুমের অভিযোগে আমার বিরুদ্ধে মামলা করেন।

তিনি বলেন, দুই দফায় ছয় দিন রিমান্ডে নিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য করে পুলিশ। পরে এসআই মিলাদুন্নবী ২০১৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর আদালতে আমার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেন। আড়াই লাখ টাকা খরচ করে হাইকোর্ট থেকে জামিন করিয়ে আনেন আমার মা।

আজিজার বলেন, রিমান্ডে পুলিশের নির্যাতনের চিহ্ন এখনও আমার শরীরে আছে। নির্যাতন সইতে না পেরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলাম।

সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, শামীম তিন বছর আগে থেকে বাড়িতে আছে। সোমবার আজিজারের এলাকায় ত্রাণ নিতে গেলে আটক করা হয়। পরে থানায় এসে অভিযোগ করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু কাগজপত্র যাচাই করে শামীমের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ পাওয়া যায়নি। 

তিনি বলেন, আজিজারের বিরুদ্ধে শামীমের মা ঝর্ণা বেগমের করা মামলার বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই। তবে কোনও অভিযোগ না থাকায় শামীমকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।