‘বঙ্গবন্ধু মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেছেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। তিনি সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত একটি দেশের মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তিনি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। শত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সেই সোনার বাংলা গঠন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’

প্রতিমন্ত্রী রবিবার (২৯ আগস্ট) বিকালে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ১০টি রাস্তা এবং ১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, ‘কোভিড-১৯ পরিস্থিতি সামাল দিতে যেখানে গোটা পৃথিবী হিমশিম খাচ্ছে সেখানে আমাদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রয়েছে। দেশকে আরও সামনে নিয়ে যেতে হলে শেখ হাসিনার নেতৃত্ব আমাদের অত্যন্ত প্রয়োজন। একটি দেশে শুধু সরকারের ধারাবাহিকতা থাকলেই উন্নয়ন হয় না, সঙ্গে যোগ্যতাসম্পন্ন নেতার প্রয়োজন। সে কারণেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিকল্প নেই।’

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতিতে সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি সঠিকভাবে মেনে চলার ক্ষেত্রে আমরা এখনও অনীহা প্রকাশ করছি। অনেকেই মাস্ক পরিধান করছি না। এটা করলে চলবে না। কোভিড কালে আমরা অনেককে হারিয়েছি, অনেক চেনামুখ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। সাধারণ সর্দি-কাশি মনে করে এখনও অনেকে কোভিডকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না।’ তিনি সবাইকে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী পরানপুর হাটে নির্মিত দুটি মার্কেট এবং এমএ হাদী কলেজে নির্মিত একটি চারতলা একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন করেন।

পরানপুরে মার্কেট উদ্বোধন শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কোভিড পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উন্নয়ন কাজগুলো সঠিকভাবে করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সঠিক পরিকল্পনায় বর্তমান উন্নয়ন কাজগুলো করতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব বুঝে সঠিকভাবে কাজ করতে হবে।

‘আমরা যে কাজগুলো হাতে নিয়েছি তা ঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা তা দেখার দায়িত্ব জনগণের রয়েছে। এ প্রকল্পগুলোতে কতটা ইট-বালি লাগবে তা জানার দায়িত্ব আপনাদের রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন ও বাড়িঘর নির্মাণ করায় পরানপুর এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এটা বর্তমানে এখানকার বড় রকমের একটা সমস্যা।’ তিনি জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি জানান, বরেন্দ্র এলাকায় বিলের জলাবদ্ধতা যত দ্রুত সম্ভব নিরসন করা হবে।