বর্তমানে ঊর্ধ্বমুখী নিত্য পণ্যের বাজারে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে আলুর দাম। রাজশাহীতে চাষিদের প্রত্যাশার সঙ্গে বাড়তি মজুতের মানসিকতায় বাজারে আলুর দাম নিয়ে তেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। পরিবেশ ঘোলা করে দাম বাড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও এবার চোখে পড়েনি। তবে এর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। মজুত বেশি আর সরবরাহ কমে যাওয়ায় দামও কম। এতে অনেক চাষি উৎপাদন খরচও তুলতে পারেননি। এ কারণে আসন্ন মৌসুমে আলুর আবাদ নিয়ে অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উৎপাদন বেশি হবে বলেই মনে করছে কৃষি বিভাগ।
আলু ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ বছর আলু বিক্রি করে এখন পর্যন্ত হাতেগোনা কিছু ব্যবসায়ী লাভের মুখ দেখেছেন। বাকিরা এখন পর্যন্ত লোকসানের মধ্যে রয়েছেন। আর যে সময় প্রতিকেজি আলু ৯ থেকে ১০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে; সেসময় আলু বিক্রি করে কোল্ড স্টোরেজের খরচও তোলা সম্ভব হয়নি।
পবা উপজেলার আলুচাষি শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি এ বছর ৭০ বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করেছিলেন। যেখানে আড়াই হাজার বস্তার মতো আলু কোল্ড স্টোরেজে রেখেছেন। এর মধ্যে কিছু বিক্রি করেছেন। আর কিছু আছে। এবার আলু বিক্রি করে তার অনেক লোকসান হয়েছে। তবে এবারও তিনি গত বছরের মতোই আলুর আবাদ করবেন। কেননা অন্য কিছু আবাদ করার মতো সুযোগটা কম। সামনের বছর দাম যে এমন থাকবে এমনও তো না।
তিনি আরও জানান, এক-দেড় মাসের মধ্যে আলু লাগানো প্রায় শেষ হয়ে যাবে। এখনও আলুর প্রায় ৪০ শতাংশ মজুত আছে। এর প্রায় ২০ শতাংশ বীজের আলু। আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে আলু উঠতে শুরু করবে। ফলে এ বছর আলুর দাম আর বাড়বে না। তবে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এটা সত্য।
এ বিষয়ে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কেজেএম আব্দুল আউয়াল বলেন, রাজশাহীতে এবারও আলু উৎপাদনে যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, তা পূরণ হবে। কারণ এবার আলুর দাম মাঝে কিছুটা কম ছিল। সেসময় হয়তো চাষিরা লোকসান গুনেছেন। তবে এখন দাম আগের চেয়ে বেশি। বাজারে উৎপাদন ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য আছে।