বেড়ায় নৌকার মিছিলে হামলার অভিযোগ 

বেড়া পৌরসভার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাবনা-১ আসনের এমপি শামসুল হক টুকুর ছেলে ও ছোটভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব আর বাড়ছে। চাচা-ভাতিজার সমর্থকদের মুখোমুখি অবস্থানে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আসিফ শামস রঞ্জন  ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল বাতেনের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও নৌকার নির্বাচনি  অফিস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষ পরস্পরকে দায়ী করেছে।  

নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও শামসুল হক টুকুর ছেলে অ্যাডভোকেট আসিফ শামস রঞ্জন বলেন, বুধবার রাতে নির্বাচনি প্রচারণার জন্য আমার সমর্থকেরা একটি মিছিল বের করে হাতিগাড়া চৌরাস্তা মোড়ে পৌঁছায়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে নারিকেল গাছ মার্কার প্রার্থী আব্দুল বাতেনের সমর্থকরা আরেকটি মিছিল নিয়ে আসে। তারা আমার সমর্থকদের ওপর হামলা চালায় ও মারপিট করে। এ সময় মুন্না শাহাদাতসহ আমার বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়। পরে তারা আমার নির্বাচনি অফিসও ভাঙচুর করে। 

খবর পেয়ে বেড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে বেড়া থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নারিকেল গাছ প্রতীকের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী ও শামসুল হক টুকুর ছোটভাই আব্দুল বাতেন বলেন, জনসমর্থন না পেয়ে নৌকার প্রার্থী রঞ্জন তার এমপি পিতাকে সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়েছে। মামলার ফাঁদে ফেলে আমাকে নির্বাচনি মাঠ থেকে সরিয়ে দিতে চেষ্টা করছে। আমার কর্মীদের হয়রানি করতেই তারা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে নিজেরা নির্বাচনি অফিস ভেঙে আমার কর্মীদের ধাওয়া করেছে। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অনুরোধ করেছি।

তিনি আরও বলেন,  উত্তেজনা সৃষ্টি করে হট্টগোল বাধিয়ে নৌকার প্রার্থী বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে আমাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। আমি প্রশাসনের কাছে জীবনের নিরপত্তা চাই, নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ চাই।

স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন চাচা-ভাতিজার সমর্থকদের মুখোমুখি অবস্থানে যেকোন্র মূহুর্তে বড় ধরনের সংঘর্ষ হতে পারে।

বেড়া মডেল থানার ওসি অরবিন্দ সরকার বলেন, দুটি মিছিল মুখোমুখি হলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি।