নির্বাচনি সহিংসতায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী নিহত, থানায় ২ মামলা

পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে এইচএসসি পরীক্ষার্থী মোহাম্মদ নাসিম (১৭) নিহতের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে নিহতের বাবা নায়েব আলী ও বিদ্রোহী আনারস প্রতীকের প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমানের ভাই বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা দুটি করেন।

পাবনা সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, নায়েব আলী মামলার আরজিতে উল্লেখ করেছেন, ‘তার ছেলে বাজারে ওষুধ কিনতে গিয়েছিল। সেখানে দুই প্রার্থীর নির্বাচনি সংঘাত চলাকালে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করার সময় তিন-চার জন অজ্ঞাত যুবক নাসিমকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে।’ এ ঘটনায় তিনি সব আসামিদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ওসি জানান, প্রচারণায় হামলার অভিযোগে আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমানের ভাই রহমত আলী বাদী হয়ে ৫০ জনের নাম উল্লেখ করে সোমবার রাতে পৃথক আরেকটি মামলা করেছেন। তারাবাড়িয়ায় সংঘর্ষে জড়িত সন্দেহে সোমবার রাতে আটক হওয়া কুতুবউদ্দিন ও আব্দুল মতিনকে মামলায় অভিযুক্ত করায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মঙ্গলবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, মঙ্গলবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে নাসিমের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। বাদ জোহর তারাবাড়িয়া খাপড়াডাঙ্গী কবরস্থানে জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিহতের বাবা নায়েব আলী।

তার দাবি, ‘জানি বিচার পাবো না। আমার মতো দরিদ্র অসহায় মানুষের পক্ষে কেউ থাকবে না। পুলিশ বলেছে, তাই মামলা করেছি। আমার যা হারিয়েছে তা কেউ ফেরত দিতে পারবে না।’

বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমার প্রচারণায় বাধা দিতে নৌকার প্রার্থীর পক্ষ হয়ে সুজানগর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রাজু ও সুজানগর উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাতিজা সুজানগর পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম সোহাগের নেতৃত্বে হামলা হয়েছে। সে ঘটনার ছবি তোলায় সোহাগ নিজেই পেছন থেকে চাকু মেরে নাসিমকে হত্যা করেছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে এসে নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছেন। আশা করছি, সন্ত্রাসীরা দ্রুত আইনের আওতায় আসবে।’

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রোকনুজ্জামান সরকার বলেন, ‘পাবনা সদরের দুর্গম চরাঞ্চলের দুই ইউনিয়ন ভাঁড়ারা ও চরতারাপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও কলেজছাত্র নিহত হওয়ায় পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মামলাগুলোর আসামিদের গ্রেফতারে জোর তৎপরতা চলছে। ভাঁড়ারায় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ইয়াসিন হত্যা মামলায় নৌকার প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আবু সাঈদ খানসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আবু সাঈদ খানের ভাতিজা শুভ, অনুসারী মানিকসহ ছয় আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধান আসামি আবু সাঈদকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’

চতুর্থ ধাপে আগামী ২৬ ডিসেম্বর পাবনা সদরের ১০ ইউনিয়নে ভোট হবে। তবে, ভাঁড়ারা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইয়াসিন নিহত হওয়ায় ওই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।