বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রসহ নিহত ৩

বগুড়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ তিন জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। হাইওয়ে ও থানা পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।

নিহতদের মধ্যে দুই জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন—বগুড়া পুন্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (পিইউবি) ইংরেজি তৃতীয় বর্ষের ছাত্র কামরান হুসাইন রিগ্যান (২৩)। তিনি কাহালু উপজেলার শেখাহার গ্রামের সাইদুল ইসলাম রিপনের ছেলে। অন্যজন হলেন বাসচালক দিনাজপুর সদরের উপশহর এলাকার মৃত আবদুল লতিফের ছেলে নুরুল ইসলাম (৫২)। অপরজন অজ্ঞাত মানসিক প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক।

বগুড়া সদর থানার এসআই মাসুদ রানা জানান, শনিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষায় অংশ নেন রিগ্যান। বেলা দেড়টার দিকে পরীক্ষা শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। গোদারপাড়া বাজারে পৌঁছালে নওগাঁগামী একটি মালবাহী ট্রাক অতিক্রমের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে পড়ে যান। এ সময় ট্রাকের পিছনের চাকা মাথার ওপরে উঠে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। 

পুলিশ জানায়, পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় সদর থানায় অপমৃত্যু মৃত্যু মামলা হয়েছে। ঘাতক ট্রাক ও চালককে শনাক্তে চেষ্টা চলছে।

হাইওয়ে পুলিশ বগুড়া অঞ্চলের শেরপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর একেএম বানিউল আনাম জানান, শুক্রবার (১৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে শেরপুরের শেরুয়া বটতলা এলাকায় বগুড়াগামী শ্যামলী পরিবহন ও ঢাকাগামী সূর্য পরিবহনের দুটি বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে শ্যামলী পরিবহনের চালক নুরুল ইসলামসহ অন্তত ২৫ যাত্রী আহত হন।

তাদের মধ্যে ১১ জনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকাল ৯টার দিকে নুরুল ইসলাম মারা যান।

বগুড়া সদর থানার এসআই ইমতিয়াজ শাওন জানান, শারীরিক প্রতিবন্ধী অজ্ঞাত এক ভিক্ষুক ছিলিমপুর এলাকায় বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের ২ নম্বর গেটের পাশে দীর্ঘদিন ধরে থাকতেন। গত ১৯ নভেম্বর মহাসড়ক পার হওয়ার চেষ্টা করলে অজ্ঞাত একটি যান তাকে ধাক্কা দেয়। মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দুুপুরে তিনি মারা যান। লাশ মর্গে রাখা হয়েছে। পরিচয় পাওয়া না গেলে দাফনের জন্য  আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামে পাঠানো হবে।