প্রতিপক্ষের হামলায় যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ, লাশ নিয়ে মিছিল

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার দেবোত্তর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক সেলিম হোসেনের (৩৬) মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। 

শনিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকালে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সেলিম ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের জমসেদ আলীর ছেলে। 

হামলা ও মৃত্যুর জন্য নৌকার সমর্থকদের দায়ী করেছেন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী। তবে পুলিশ বলছে, সেলিম হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। সন্ধ্যায় মরদেহ নিয়ে দেবোত্তর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে এলাকাবাসী। 

জানা গেছে, দুপুরে দেবোত্তর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদের স্বতন্ত্র প্রার্থী কে এম শাহীন (আনারস প্রতীক) কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে রায়পুর গ্রামে গণসংযোগে গেলে নৌকার কর্মী-সমর্থকরা হামলা চালায়। এতে কয়েকজন আহত হয়। তাদের মধ্যে সেলিমকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আহতরা হলেন—স্বতন্ত্র প্রার্থী কে এম শাহীন, ইউপি সদস্য আব্দুল আওয়াল, সাবেক ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম, জামাল উদ্দিন, কামাল উদ্দিন, আসাদুল ইসলাম। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

এদিকে, সেলিমের মরদেহ নিয়ে সন্ধ্যায় বিক্ষোভ মিছিল করে সমর্থক ও স্বজনরা। বিক্ষোভ শেষে উপজেলার সদর দেবোত্তর বাজার চৌরাস্থা মোড়ে লাশ রেখে প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাকসুদা আক্তার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবিরের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

কে এম শাহীনের অভিযোগ, নির্বাচনি প্রচারণায় তার কর্মী-সমর্থকদের ওপর নৌকার প্রার্থী মোহাইমিন হোসেন চঞ্চলের কর্মী সমর্থকরা হামলা চালায়। এতে আহত সেলিম মারা গেছেন।

হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে নৌকার প্রার্থী মোহাইমিন হোসেন চঞ্চল বলেন, হামলার কোনোওঘটনা ঘটেনি। সেলিমের মৃত্যু হার্ট অ্যাটাকে হয়েছে। তার মৃত্যুকে পুঁজি করে মিথ্যা অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে চিকিৎসকের রিপোর্ট বলা হয়েছে, সেলিম মৃত্যু হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন।