রাজশাহীতে পাওনা টাকা পরিশোধ না করতে অপহরণের নাটক করে গ্রেফতার হয়েছেন মিজানুর রহমান (২৬) নামে এক ব্যক্তি। রাজশাহী নগরীর টুলটুলিপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কাজীহাটা ধরমপুর গ্রামে তার বাড়ি। বাবার নাম এমারত আলী।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান নিশ্চিত হয়ে মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) ঢাকার গাবতলী থেকে মিজানুরকে গ্রেফতার করে আনে। এরপর বুধবার দুপুরে মহানগর ডিবি পুলিশের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মহানগর ডিবি পুলিশের উপকমিশনার আরেফিন জুয়েল জানান, মিজানুর ২০১৪ সাল থেকে ‘ফরেক্স ফ্যাক্টরি’ নামে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানে অনলাইনের মাধ্যমে বিনিয়োগ করেন। প্রথমদিকে ভালো লাভ করলেও ধীরে ধীরে তার লোকসান হতে থাকে। তিনি বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার করে ৩১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। একপর্যায়ে সব টাকাই তিনি হারিয়ে ফেলেন। এই ঋণ পরিশোধ না করার জন্য তিনি অপহরণের নাটক সাজান। ১৩ ডিসেম্বর তিনি আত্মগোপন করেন। তারপর বাড়িতে ফোন করে জানান, তাকে অপহরণ করা হয়েছে। ২০ লাখ টাকা না দিলে তাকে মেরে ফেলা হবে। পরে ১০ লাখ এবং সবশেষ ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। তবে টাকা না দিয়ে মিজানুরের মা মনিরা বেগম নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এই জিডির পরিপ্রেক্ষিতেই ডিবি পুলিশ মিজানুরের অবস্থান শনাক্ত করতে কাজ শুরু করে।
আরেফিন জুয়েল জানান, মিজানুর বার বার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন। অবশেষে তাকে ধরা সম্ভব হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে মিজানুর সাংবাদিকদের জানান, ঋণের টাকা পরিশোধ না করতে পেরে তিনি নিজেই অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমার একটা ভুলের কারণে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ঋণ হয়ে গেছে। এ জন্য আমাকে এই কৌশল নিতে হয়েছিল।’