দুই শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে রাজশাহীতে এক কলেজ শিক্ষককে গ্রেফতারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রবিবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে ওই শিক্ষককে যৌন হয়রানির মামলায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
এর আগে, শনিবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নগরের মহিষবাথান এলাকায় ‘নাজিম প্রাইভেট সেন্টার’ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ওই শিক্ষকের নাম আহাদুজ্জামান নাজিম (৩৭)। তিনি রাজশাহী নগরীর ভাটাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়িহাট ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক সে। নগরীর মহিষবাথান এলাকায় নাজিমের ‘নাজিম প্রাইভেট সেন্টার’ নামের একটি কোচিং সেন্টার রয়েছে তার। রাজাবাড়িহাট ডিগ্রি কলেজের মার্কেটিং বিভাগের প্রভাষক হলেও কোচিংয়ে ইংরেজি পড়াতো।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) বিকালে কোচিংয়ে দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করে নাজিম। ওই দুই ছাত্রীকে কৌশলে মোটরসাইকেলে তুলে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও চালায়। তবে তারা সঙ্গে না গিয়ে কৌশলে বাড়ি চলে যান। এরপর কোচিংয়ে আসা বন্ধ করে দেন। ওই দুই ছাত্রীর অভিভাবকসহ অন্য অভিভাবকেরা শনিবার সন্ধ্যায় কোচিং সেন্টারটি ঘেরাও করে পুলিশে খবর দেন। এরপর পুলিশ গিয়ে নাজিমকে থানায় নিয়ে আসে। এ নিয়ে রাতেই এক ছাত্রীর অভিভাবক বাদী হয়ে শিক্ষক নাজিমের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই শিক্ষকের মাধ্যমে আগেও বহু শিক্ষার্থী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। তবে তারা ভয়ে কিছু বলেনি।
নগরীর রাজপাড়া থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘মার্কেটিংয়ের শিক্ষক হয়েও কোচিংয়ে ইংরেজি পড়াতেন। বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা তার কাছে ইংরেজি পড়তো। শনিবার অভিভাবকরা ঘেরাও করলে পুলিশ সেখানে গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে আসে। পরে রাতে এক অভিভাবকের মামলা করলে রবিবার সকালে নাজিমকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’