পোড়া মাটির ফলক ও নকশাগুলো অযত্নের কারণে মন্দিরের গা থেকে খসে পড়েছে অনেক আগেই। মন্দিরগুলোর ভিত্তি ক্ষয় হয়ে গেছে অনেকাংশে। বে-দখল হয়েছে অনেক জায়গা জমি। স্থানীয় অধিবাসীরা এখন মন্দিরের গায়ে গোবর-চাপড়া লাগিয়ে শুকায়। গৌড়িয়া ইট ও চুন সুরকীর সাহায্যে নির্মিত মন্দিরগুলো ভেঙে পড়তে পারে যে কোনও মুর্হূতে। ভোলাহাট থানা-পুলিশের কার্যালয় যেতে ডানদিকে একটি এবং বামদিকে অপর দুটি মন্দির পাশাপাশি অবস্থানে রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান,প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ মন্দিরগুলো সংস্কারের উদ্যোগ না নিয়ে এগুলোকে বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে। মন্দিরগুলোর অবস্থা এখন এতটাই শোচনীয়,যে কোনও মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে। এ অবস্থায় স্থানীয়দের দাবি মন্দিরগুলোর দখল করা জায়গা উদ্ধার এবং দ্রুত সংস্কার করা হোক।
স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়,বিভিন্ন সময় মন্দিরগুলোর খোদাই করা পাথর,ইট, টাইলস,টেরাকোটাসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিস চুরি হয়ে গেছে।
স্থানীয় সিনিয়র সাংবাদিক এম এস আই শরিফ জানান,বর্তমানে মন্দিরগুলোর গম্বুজের ওপর অসংখ্য গুল্মলতা ভর করেছে। মেরামত বা সংরক্ষণ না করলে যে কোনও সময় সেগুলো ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।
আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মাজহারুল ইসলাম তরু বলেন, মন্দিরগুলো সংরক্ষণ করা জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারবে না দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য।
তিনি বলেন,চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলা অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্যে ভরা। মন্দিরগুলো সংরক্ষণ করে পর্যটন এলাকা হিসেবেও ঘোষণা করা যেতে পারে। আজ থেকে ১০/১৫ বছর আগেও আমরা যখন মন্দিরগুলো দেখেছি তখন এর বিচিত্র কারুকার্য খচিত নকশা ও গঠনশৈলি মানুষকে বিমোহিত করতো । এখন তার কোনও কিছুই অবশিষ্ট নেই।
/জেবি/এমএসএম/
আপ-এমপি