তবে, চিকিৎসকরা বলছেন, শুধু শীতজনিত কারণেই শিশুরা মারা যাচ্ছে—এটা ঠিক নয়। এমনিতেই শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম। শীতের সময় বিভিন্ন ভাইরাস ছড়িয়ে থাকে। বিভিন্ন ইনফেকশন, প্রিম্যাচিউরড বার্থ, অপুষ্টিজনিত সমস্যার সঙ্গে ঠাণ্ডা যুক্ত হওয়ায় শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।
রাজশাহীতে ১৯ জানুয়ারি থেকে শীতের প্রকোপ বাড়তে থাকে। এক সপ্তাহ থেকে এই অবস্থা বিরাজ করছে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, গত রবিবার রাজশাহীতে ছিল এই মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। সেদিন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে শনিবারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই ঠাণ্ডা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে শীতজনিত রোগের প্রকোপ। ফলে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় তারা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সোমবার শিশু ওয়ার্ডের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে দুজন ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে চারজন শিশুর ঠাণ্ডাজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে। এর আগে গত রবিবার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়। এরও আগে গত চার দিনে ৩৮ শিশুর মৃত্যু হয়। তবে এই শিশুদের সবার বয়স এক থেকে ২৮ দিনের মধ্যে। এছাড়া, গত এক সপ্তাহে শুধু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শিশুদের তিনটি ওয়ার্ডে ১২৭ জন শিশু ভর্তি হয়। যাদের বয়স এক মাস থেকে শুরু করে ১২ বছর পর্যন্ত।
বাঘা থেকে এসে গত রবিবার রাজশাহী মেডিক্যাল (রামেক) কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মাইশা। তার বয়স দুই বছর। তার বাবা রিয়াবুল ইসলাম জানান, মেয়েটি শনিবার থেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। রবিবারে দিন বেশি হওয়ায় বাধ্য হয়ে মেডিক্যালে ভর্তি করিয়েছি। এখনও চিকিৎসা চলছে। দেখা যাক কী হয়?
তবে শীতজনিত কারণে শিশু মৃত্যুর বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. ছানাউল হক মিঞা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রিম্যাচিউর বার্থে পৃথিবীতে সবচেয়ে এগিয়ে আছে। নবজাতক শিশুদের এমনিতেই বিভিন্ন ইনফেকশ হয়, তার ওপর প্রিম্যাচিউর বার্থ হওয়ায় মারা যায়। এছাড়া, অপুষ্টিজনিত সমস্যা থাকে, খাওয়ানো যায় না। এইসব কারণে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এটা সারাবছরই শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
ডা. ছানাউল হক মিঞা ঠাণ্ডাজনিত রোগ নিয়ে আশঙ্কা করার কিছু নেই বলে মনে করেন। তিনি বলেন, একটু সতর্ক থাকলেই এই সময়ে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো, গরম কাপড়চোপড় পরিয়ে রাখা, ঠাণ্ডা যেন না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
/এমএনএইচ/