বগুড়ার গাবতলীতে প্রতিবছর পোড়াদহ সন্ন্যাসী ও জামাই মেলা শেষে ‘বউ মেলা’ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মহিষাবান ইউনিয়নের পোড়াদহ এলাকায় ইছামতি নদীর তীরে এ মেলা বসে। মেলার ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই নারী। ফলে বিভিন্ন বয়সের নারীরা প্রাণভরে মেলায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। কিনেছেন নানা পণ্য, প্রসাধনীসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী।
আয়োজকরা জানান, মাঘের শেষ বুধবার পোড়াদহ এলাকায় একদিনের সন্ন্যাসী ও জামাই মেলার আয়োজন করা হয়। এবার করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও ঐতিহ্যবাহী এ মেলার আয়োজন হয়। তবে মেলার প্রধান আকর্ষণ বাঘাইড় মাছ কেনাবেচা বন্ধ থাকায় এবার জনগণ কিছুটা হলেও হতাশ হয়। তারপরও গভীর রাত পর্যন্ত মেলায় হরেক প্রজাতির বড় বড় মাছ কেনাবেচা হয়েছে।
বিক্রি হয়েছে কয়েক টন মিষ্টান্ন, আসবাবপত্র, গৃহস্থালী সামগ্রী, বিভিন্ন ধরনের খাবার, বরই, গরু, ছাগল ও মহিষের গোশত। মেলায় আগতরা প্লেট ভরে মিষ্টি, ফুচকা, চটপটি, গরুর পায়া ও নেহেরিসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার খেয়েছেন।
গাবতলীর মহিষাবান গ্রামের গৃহবধূ শ্রাবণী আকতার বানু বলেন, গত ১৫ বছর আগে বগুড়া শহরে বিয়ে হয়েছে। প্রতি বছরই মেলার আগে স্বামী, সন্তান, শাশুড়ি, ননদ ও অন্যদের নিয়ে বাপের বাড়ি বেড়াতে আসি। গত বুধবার স্বামীর সঙ্গে মেলায় এসে মিষ্টি, মাছ, আচার, কুলসহ বিভিন্ন পণ্য কিনেছি। বৃহস্পতিবার ‘বউ মেলা’য় এসেছি নিজের, মেয়ের, বোনের ও ননদের জন্য কিছু কিনতে। তিনি চুড়ি, ফিতা, মাথার ব্যান্ড, নেইলপলিস, লিপস্টিক ও মেয়ের জন্য খেলনা কিনেছেন বলে জানান।
হাতিবান্ধী গ্রামের হাজী শাহজাহান আলীর মেয়ে বগুড়া কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া আকতার তিন বান্ধবীকে নিয়ে বউ মেলা ঘুরতে এসেছেন। তিনি বলেন, মেলা দেখতে শহর থেকে তিন বান্ধবীকে দাওয়াত করে নিয়ে এসেছি। মেলায় ঘোরাঘুরি শেষে নিজেদের জন্য কিছু প্রসাধন সামগ্রী কিনবেন বলে জানান সুরাইয়া।
বউ মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জানান, এবারের ৩০তম মেলায় প্রায় ২০০ দোকান বসেছে। দোকানগুলোতে নারীদের সব ধরনের প্রসাধনী, তৈজসপত্র, বাচ্চাদের খেলনা ও ঘর সাজানোর সামগ্রী বিক্রি হয়েছে। মেলায় পুরুষদের প্রবেশাধিকার না থাকায় নারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করে থাকেন। তবে এবার কিছু দোকানে নারী বিক্রেতাদের স্বামীরা সহযোগিতা করেছেন। তবে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।