বনপাড়া সেন্ট যোসেফ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কারিতাসের সাবেক আঞ্চলিক পরিচালক গাব্রিয়েল কস্তা (৮০) ও তার স্ত্রী বীণা পিরিস (৭০) কে উপজেলার বনপাড়া পাটোয়ারী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কর্তব্যরত ডাক্তার জানিয়েছেন, তারা এখন শঙ্কামুক্ত তবে কখন তাদের জ্ঞান ফিরবে তা এখনও নিশ্চিত নয়।
বুধবার রাত ১২টার কিছু আগে নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের হামলায় তারা সঙ্গাহীন হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা বৃহস্পতিবার সকালে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। মারধরের পর তাদের নেশাজাতীয় দ্রব্য খেতে বাধ্য করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে পুলিশ।
বনপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই দয়াল জানান, কস্তা দম্পতির এক ছেলে-দুই মেয়ে। ছেলে পুলক কস্তা রাজশাহীতে ও অপর দুই মেয়ে ঢাকায় থাকেন। আর খ্রিস্টান দম্পতি থাকেন উপজেলার বনপাড়া পৌর এলাকার ৮নং ওয়ার্ডের কালিকাপুর মহল্লায়। তাদের বাড়ি এক নির্জন এলাকায়। বাড়ির চতুর্দিকে বিভিন্ন জাতের গাছ আর একটি বাঁশঝাড় রয়েছে। বাড়ির পেছনে আবাদি জমি।
জানা গেছে, দম্পতির এক মেয়ে বুধবার রাত ১২টার দিকে খোঁজ নিতে বাবার মোবাইল ফোনে কল করলেও তা রিসিভ হয়নি। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে আবার ফোন করেও তা রিসিভ না হওয়ায় তার সন্দেহ হয়। পরে তিনি পার্শ্ববর্তী একজনকে ফোন করে খোঁজ নিতে বলেন। তারা বার বার ডাকার পরও খ্রিস্টান দম্পতির কোনও সাড়া না পেয়ে বাড়ির গ্রিলের তালা ভেঙে দম্পতিকে বাসার মধ্যে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে পাটোয়ারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে দম্পতির ছেলেমেয়েরা বৃহস্পতিবার বিকেলে হাসপাতালে পৌঁছেন।
এসআই দয়াল দাবি করেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে খবর পেয়ে তিনি ফোর্সসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বাড়িতে বিভিন্ন জিনিস তছনছ করা দেখতে পেয়েছেন। খ্রিস্টান দম্পতির বাড়ির বাথরুমে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে একটি দরজা থাকলেও বাইরের দিকে আরেকটি দরজা রয়েছে যেটি নড়বড়। ওই পুলিশ কর্মকর্তার ধারণা, কেউ হয়তো এই দরজা দিয়ে বাথরুম হয়ে ঘরে ঢুকে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও কর্তব্যরত ডাক্তাররা জানান, বীণা পিরিসের হাঁটুর নিচে আঘাতের কালশিরা ও নীচ ঠোঁটের নিচে আঘাতজনিত কাটা দেখা গেছে। সেখান থেকে কিছুটা ব্লিডিং হয়েছে।
এসআই দয়াল আরও দাবি করেন, তিনি হাসপাতালে গাব্রিয়েল কস্তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছেন। এ সময় কস্তা চোখ খুলে তাকালেও কোনও কথা বলতে পারেননি। তবে বীণা পিরিস তখনও অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন।
হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী জানান, দুর্বৃত্তরা সম্ভবত খ্রিস্টান দম্পতিকে মারধর করার পর নেশা জাতীয় কিছু খাইয়েছে। তবে তারা শঙ্কামুক্ত।
আহতদের ছেলে পুলক কস্তা ও তার দুই বোন দাবি করেন, তাদের বাবা-মায়ের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও খাবারই কেবল বাড়িতে থাকে। তাদের সঙ্গে কারও কোনও ধরনের শত্রুতা নেই। কি কারণে কারা তাদের বাবা-মায়ের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে বা কিছু লুট করেছে কিনা তা এখনই বলা সম্ভব হচ্ছে না।
এসআই দয়াল জানান, খ্রিস্টান দম্পতির বাড়ির পাশের বাগান ও বাঁশঝাড় থেকে এর আগে বেশ কয়েকবার নেশাখোরদের আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়েছে। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে হয়তো নেশাখোর দুর্বৃত্তরাই তাদের ওপর আক্রমণ চালাতে পারে। এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত কোনও মামলা দায়ের হয়নি। তবে চিকিৎসাধীনদের ব্যাপারে তারা সার্বক্ষণিক খোঁজ নিচ্ছেন। তাদের জ্ঞান ফিরলে বিস্তারিত শুনে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
/টিএন/
/আপ-এএ/