২ কৃষকের আত্মহত্যার একমাস পর তাদের বাড়িতে বিএমডিএ চেয়ারম্যান

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার নিমঘুটু গ্রামের আত্মহত্যা করা দুই সাঁওতাল কৃষকের বাড়িতে গেছেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) চেয়ারম্যান বেগম আখতার জাহান। দুই কৃষককের মৃত্যুর এক মাস পর বুধবার (২০ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে তিনি তাদের বাড়িতে যান।

তিনি প্রথমে আত্মহত্যা করা কৃষক রবি মারান্ডির বাড়ি যান। এ সময় বাড়িতে শুধু রবির মা দলিনা মুর্মু ছিলেন। বিএমডিএ চেয়ারম্যান তাকে সমবেদনা জানান। তখন অঝোরে কাঁদতে থাকেন নিহত কৃষকের মা। বিএমডিএ চেয়ারম্যান এ সময় তাকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেন। তিনি সবসময় রবির পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এ সময় দলিনা মুর্মুকে একটি বয়স্কভাতার কার্ড করে দেওয়ার জন্যও তিনি স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেলকে বলে দেন।

এরপর বিএমএডি চেয়ারম্যান আত্মহত্যা করা আরেক কৃষক অভিনাথ মারান্ডির বাড়ি যান। তবে এই বাড়িতে কেউ ছিলেন না। বাড়ির পাশে তার মায়ের বাড়িতেও কাউকে পাওয়া যায়নি। তাদের বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় দুপুর পর্যন্ত তিনি গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেলের অফিসে গিয়ে বসেন। তবে না আসায় অভিনাথের স্ত্রী রোজিনা হেমব্রমকে সহায়তার ৫০ হাজার টাকা বুঝিয়ে দিতে ইউপি চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেলের হাতে তুলে দেন।

আখতার জাহান জানান, পানি নিয়ে সমস্যার কথা আগে জানতে পারলে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেন। এখন রবি চলে গেছেন। তবে বিএমডিএ রবির পরিবারের পাশে থাকবে। দুই কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনায় পরিবার যে মামলা করেছে, সেটা আইনের গতিতেই চলবে। বিএমডিএ দুই পরিবারের পাশেই আছে। দলিনা মুর্মুকে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়ার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এই সরকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও আদিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর পথ অনুসরণ করে ও দিক নির্দেশনা মোতাবেক বিএমডিএ সবসময় দেশের সাধারণ মানুষ ও কৃষকের পাশে আছে এবং থাকবে। দুই কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তারা কেন আত্মহত্যা করেছেন এর সঠিক কারণ বের করতে হবে।’

এ সময় চেয়ারম্যানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন- বিএমডিএ’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. শামসুল হুদা, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মো আবুল কাসেম, বিএমডিএ সচিব ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিন্নুরাইন খান, দেওপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেল, বিএমডি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জি এফ এম হাসনুল ইসলাম (ফারুক), সাধারণ সম্পাদক রাহাত পারভেজ, বিএমডিএ কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. জীবন, সিবিএ সভাপতি মেসবাউল হক প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ২৩ মার্চ গোদাগাড়ীর নিমঘুটু গ্রামে সঠিক সময়ে ধানের জমিতে পানি না পেয়ে কৃষক অভিনাথ মারান্ডি ও রবি মারান্ডি বিষপানে আত্মহত্যা করেন। পরে এ ঘটনায় নলকূপের অপারেটর সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনায় মামলা করেন অভিনাথের স্ত্রী রোজিনা হেমব্রম।

পুলিশ সাখাওয়াতকে গ্রেফতার করেছে। বিএমডিএ তাকে চাকরিচ্যুত করেছে। ১৬ এপ্রিল দুই কৃষকের লাশের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেয়েছে পুলিশ। এতে বলা হয়েছে, ‘অর্গানো ফসফরাস যৌগ’ নামের এক ধরনের কীটনাশক পানে তাদের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে, মন্ত্রণালয় ও বিএমডিএ’র পক্ষ থেকে গঠিত দুইটি তদন্ত কমিটি গভীর সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে সেচ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম পেয়েছে।