এসএসসি পরীক্ষার্থীর বাবার অভিযোগে থেকে জানা যায়, বগুড়া সদর উপজেলার গোকুল মধ্যপাড়ার গাড়ি চালক জিন্নাহ মিয়ার মেয়ে স্থানীয় তমিরননেছা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং তার ভাগ্নি মুদি দোকানি বাবলু মিয়ার মেয়ে একই স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। সম্প্রতি ওই এলাকার সন্ত্রাসী যুবলীগ ক্যাডার আকুল ও রাব্বি ওই দুই ছাত্রীকে উত্যক্ত করতে শুরু করে। এক পর্যায়ে আকুল এসএসসি পরীক্ষার্থীকে এবং রাব্বী সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। অভিভাবকরা বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় তারা ক্ষিপ্ত হয় তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
জিন্না মিয়া অভিযোগ করেন, গত ১০ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে আকুল ও রাব্বী দলবল নিয়ে বাড়িতে এসে তার মেয়ে ও ভাগ্নিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে ব্যর্থ হয়ে তারা বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ও পানির ট্যাংক ভাংচুর এবং খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয়। জিন্নার স্ত্রী বেবি বেগমকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে মেয়েদের সঙ্গে বিয়ে না দিলে সবাইকে পুড়িয়ে মারার হুমকি দেয়। বাধ্য হয়ে তারা দুই মেয়েকে অন্য এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে লুকিয়ে রাখেন। আকুল বাহিনী এতে আরও ক্ষিপ্ত হয় এবং গত ২২ জানুয়ারি দিনের বেলায় তার (জিন্না) বাড়িতে এসে অর্ধ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ষাঁড় নিয়ে যায়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সদর থানার ওসি (তদন্ত) আসলাম আলী বলেন, ভিকটিমের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিষয়টি জানতে পেরে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা গত রবিবার দুই ছাত্রীকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়। ওই রাতে জিন্না মিয়ার ভাই আবদুস সালাম সদর থানায় আকুল ও রাব্বীসহ ৮ সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ রাতেই তাদের সহযোগি জিএম ও সনিকে গ্রেফতার করেছে। সোমবার থেকে পুলিশ পাহারায় ওই ছাত্রী গোকুল তছলিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ।
জিন্নাহ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, পরীক্ষা চলাকালেও আকুল মোবাইল ফোনে তাকে আবার হুমকি দিয়েছে। পুলিশ প্রহরা শেষ হলেই তারা আবার হামলা করবে। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা আতংকে আছেন। সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে তিনি প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
সদর থানার ওসি (তদন্ত) আসলাম আলী জানান, প্রধান আসামি আকুল ও রাব্বী নিজেদের যুবলীগ কর্মী পরিচয় দেয়। ইতিমধ্যে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে।
তবে বগুড়া জেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ডাবলু জানান, আসামিদের মধ্যে আকুল আগে যুবলীগ করতো। তাকে গত রোজার ঈদের সময় দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া অন্য আসামিরা বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
/জেবি/এপিএইচ/আপ-এআর/