নুডুলসের সঙ্গে আস্ত একটি সেফটিপিন গিলে ফেলেছে তিন বছরের এক শিশু। সেই সেফটিপিন খাদ্যনালিতে আটকে জীবন সংকটাপন্ন সাহানা আক্তার জিদনী (৩) নামের ওই শিশুর। তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) বিকালে শিশুটিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। সেফটিপিন বের করার মতো কোনও প্রযুক্তি না থাকায় শিশুটিকে শুক্রবার দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন চিকিৎসকরা।
শিশুটির বাড়ি নাটোরের লালপুর উপজেলার বড়বাঁধ এলাকায়। তার বাবা শফিকুল ইসলাম (৩০) একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কমর্রত আছেন।
তিনি জানান, গত বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে তার মা জুলেখা বেগম নুডুলস খাওয়ানোর সময় ভুলবশত তার গলায় সেফটিপিন আটকে যায়। তৎক্ষণাৎ সে বমি করতে শুরু করে। অসুস্থ হয়ে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়। রাতেই সেখান থেকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রেফার্ড করে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। রামেকে ভর্তি করার পর এক্স-রে রিপোর্টে দেখা যায়, শিশুটির খাদ্যনালিতে সেফটিপিন বিঁধে আছে।
শিশুর বাবা আরও জানান, ওই সেফটিপিন নুডুলসে ছিল না অন্য কোনোভাবে খাবারে এসেছিল সেটি তারা নিশ্চিত নন।
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. নাজমুল হাসান জানান, শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এখন তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তবে খাদ্যনালি থেকে সেফটিপিন বের করা সম্ভব হয়নি। এটি বের করতে যে যন্ত্র প্রয়োজন সেটি তিন দিন আগে নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে ঢাকা মেডিক্যালে রেফার্ড করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সেফটিপিন খাদ্যনালিতে আটকানো ঝুঁকিপূর্ণ। এটি বের করতে গিয়ে খাদ্য নালি ছিঁড়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকে।