পুলিশ জানায়, গত বছরের ১০ জুন সন্ধ্যায় দুপচাঁচিয়া উপজেলার আটগ্রাম শাহ্পাড়ার হাবিবর রহমান ধলু নিজ ঘরে হাসুয়া দিয়ে গলাকেটে আত্মহত্যা করেন। এমন খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। তার একমাত্র ছেলে বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের ডিগ্রির ছাত্র আবু হাসান থানায় ইউডি মামলা করেন। প্রায় আট মাস পর ময়নাতদন্তের রিপোর্টে হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়। স্বজনরা রাজি না থাকায় দুপচাঁচিয়া থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জাহিদ হোসেন গত ৫ ফেব্রুয়ারি অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। বগুড়ার সিনিয়র এএসপি (বি-সার্কেল) গাজিউর রহমান সাগর হত্যাকাণ্ডটির তদন্ত শুরু করেন। ৬ ফেব্রুয়ারি সন্দেহভাজন হিসেবে ভিকটিমের একমাত্র ছেলে আবু হাসানকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি বাবাকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
রবিবার বিকালে তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিতে জানান, সংসারে মা ছাড়াও তারা তিন ভাইবোন। তার বাবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ধলু খুব বদমেজাজি ছিলেন। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মানসিক নির্যাতন করতেন। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়। গত বছরের ১০ জুন তার ডিগ্রি ১ম বর্ষের ফরম পূরণের শেষ দিন ছিল। কিন্তু বাবা তাকে গালিগালাজের পর মাত্র ৫০ টাকা দেন। হাসান ড্রয়ার থেকে টাকা নিলে বাবা ধলু খুব ক্ষুব্ধ হন এবং এজন্য স্ত্রী ও বেড়াতে আসা ছোট মেয়েকে মারপিট করেন। একপর্যায়ে ধলু মিয়া সবাইকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। বেলা ২টার দিকে হাসান বাড়ি ফিরে ঘটনাটি জানতে পেরে খুব রেগে যান। তিনি বাড়ির উত্তর পাশ দিয়ে মইয়ের সাহায্যে ঘরে ঢোকেন। এরপর হাসুয়া দিয়ে ঘুমন্ত বাবা ধলুর গলায় কোপ দিয়ে মই দিয়ে বের হয়ে আসেন। পরে পুলিশ দরজা ভেঙে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ও শরীরে আঘাতের আর কোনও চিহ্ন না থাকায় পুলিশ ও অন্যরা ধারণা করেন, ধলু আত্মহত্যা করেছেন।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে হত্যা উল্লেখ করায় পুলিশ মাঠে নামে। শনিবার হত্যাকাণ্ডের শিকার ধলুর স্ত্রী ও ছেলেমেয়েকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা হত্যার কারণ এবং কীভাবে হত্যা করা হয়েছে তা প্রকাশ করেন।
/বিটি/এএইচ/