১১ বছর পর বগুড়া বিএনপির সম্মেলন, তিন পদে ১৬ প্রার্থী

দীর্ঘ ১১ বছর পর বগুড়া বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামী ২ নভেম্বর শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে এ সম্মেলন হবে। সম্মেলনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ১৬ জন প্রার্থী হয়েছেন। 

সম্মেলনকে সামনে রেখে সোমবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শহরের নবাববাড়ি সড়কে দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে বিএনপি। 

সভায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সম্মেলন পরিচালনা কমিটির প্রধান অ্যাডভোকেট একেএম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি পদে তিন, সাধারণ সম্পাদক পদে দুই ও সাংগঠনিক সম্পাদকের তিন পদে ১১ জন প্রার্থী হয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘জেলার ২৪টি ইউনিটের মধ্যে ২২টি ইউনিটের দুই হাজার ২২২ জন নেতা ব্যালটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করবেন। সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সম্মেলন উদ্বোধন করবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। 

দলীয় সূত্র জানায়, সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট একেএম সাইফুল ইসলাম। এছাড়া সম্মেলনে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সম্মেলন পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান, সদস্য সচিব মোশারফ হোসেন এমপি, অধ্যাপক
ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, সদস্য লাভলী রহমান. ডা. মামুনুর রশিদ মিঠু, একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির, তৌহিদুল আলম মামুন, মাফতুন আহমেদ খান রুবেল, সাইদুজ্জামান শাকিল, খাদেমুল ইসলাম, সাইদুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

দলীয় নেতারা জানান, সম্মেলনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তারা আশা করছেন, এই সম্মেলন সারা দেশের জন্য মডেল হবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্মেলন সম্পন্ন করতে ১১টি উপ-কমিটি করা হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। 

সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম (ছাতা প্রতীক), সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা (আনারস) ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল (দেয়াল ঘড়ি), সাধারণ সম্পাদক পদে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলী আজগর তালুকদার হেনা (রিকশা) ও জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এমআর ইসলাম স্বাধীন (মোটরসাইকেল)।

সাংগঠনিক সম্পাদকের তিন পদে ১১ জন হলেন জেলা শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি মোশারফ হোসেন স্বপন (সিএনজি অটোরিকশা), আবদুল আজিজ হীরা (আম), সহিদ-উন-নবী সালাম (কাপ-পিরিচ), এবিএম মাজেদুর রহমান জুয়েল (বই), শেখ তাহাউদ্দিন নাইন (গোলাপ ফুল), জাহিদুল ইসলাম হেলাল (টিউবওয়েল), কেএম খায়রুল বাশার (মই), মিজানুর রহমান রাজা (কলস), শহিদুল ইসলাম সহিদ (মাইক), আলী হায়দার তোতা (চশমা) ও সোলায়মান আলী (বালতি)।

এদিকে, প্রার্থীরা নির্বাচনে জয়ী হতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন। ভোটাররাও তাদের আশ্বাস দিচ্ছেন। প্রার্থীরা জয়লাভের ব্যাপারে আশাবাদী বলছেন। 

সম্মেলন ঘিরে শহীদ টিটু মিলনায়তন ও চত্বরটি বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়েছে। মিলনায়তনের সামনে স্বাগত তোরণ, বাইরে ডেলিগেটদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে ভোটগ্রহণের বুথ। পুরো মিলনায়তন, দলীয় কার্যালয় ও বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থীদের পোস্টারে ছেয়ে গেছে।

দলীয় নেতারা জানান, ২০১১ সালের ৭ এপ্রিল সর্বশেষ সম্মেলনে আংশিক কমিটি ঘোষণা এবং ২০১২ সালের ২৩ অক্টোবর ১৭২ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। এই কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ২০১৯ সালে ভেঙে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে সব পর্যায়ে ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি।