বঙ্গমাতা না থাকলে আমরা বঙ্গবন্ধুকে পেতাম না বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. শামসুল হক টুকু।
তিনি বলেছেন, ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা কেবল বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী ছিলেন না, ছিলেন সহযোদ্ধা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সবসময় অনুপ্রেরণা দিতেন তিনি। সব খারাপ ও দুঃসময়ে পাশে থেকে সাহস দিতেন। তার অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা না থাকলে বঙ্গবন্ধু তার সব কার্যক্রম সুন্দরভাবে চালিয়ে যেতে পারতেন না। তাই বঙ্গমাতা যদি না থাকতেন তাহলে আমরা বঙ্গবন্ধুকে পেতাম না।’
সোমবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী অডিটোরিয়ামে বঙ্গমাতা সাংস্কৃতিক জোট জেলা শাখা আয়োজিত নারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যেহেতু জীবনের বেশিরভাগ সময়ই জেলখানায় কাটিয়েছন, তাই এই সময়ে তার কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাসহ সব সন্তানকে বঙ্গমাতা আগলে রেখেছেন। মানুষের মতো মানুষ হিসেবে তৈরি করেছেন। তাই বঙ্গমাতা না থাকলে আমরা যেমন বঙ্গবন্ধুকে পেতাম না, তেমনি তিনি না থাকলে আমরা বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকেও পেতাম না।’
নারী মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নারী মুক্তিযোদ্ধারা দেশের জন্য অপরিসীম দেশপ্রেম দেখিয়েছেন। নিজের জীবন বাজি রেখেছেন, দেশের জন্য নিজের সম্মান পর্যন্ত বিসর্জন দিয়েছেন। তাই তাদের এই ঋণ যেমন শোধ করা সম্ভব না।’
পরিবার থেকেই বঙ্গবন্ধু মানুষকে ভালোবাসার শিক্ষা লাভ করেছিলেন উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘কীভাবে একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে ভালোবাসেন তার শিক্ষাও কিন্তু পরিবার থেকেই লাভ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু।’
বঙ্গমাতা সাংস্কৃতিক জোট জেলা শাখার সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য সেলিনা বেগম স্বপ্নার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক স্বপন চন্দ্র দাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট কে. এম হোসেন আলী হাসান, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুস সামাদ তালুকদার, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু ইউসুফ সূর্য, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন ও পৌরসভার মেয়র সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তা।
এতে বিশেষ আলোচক হিসেবে বঙ্গমাতার জীবনের ওপর আলোচনা করেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী তানভীর শাকিল জয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার, জাতীয় চার নেতা এবং করোনায় মৃত্যুবরণ করা সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বঙ্গমাতা সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অনুপ কুমার বড়ুয়া। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেখ শাহ আলম। অনুষ্ঠানে ১৫ নারী বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা দেওয়া হয়। এ সময় সংগঠনটির জেলা শাখা ও সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা শাখার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ১৫ নারী বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়।