‘বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পর কোথায় ছিল মানবাধিকার’

মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনরা। সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে সচেতন নাগরিক সমাজ ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে ‘১৯৭১, ’৭৫, সামরিক শাসনামল, ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা, ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা, ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালে অগ্নিসন্ত্রাসের ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার চেয়ে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনরা।

‘বিএনপি-জামায়াত ও তাদের আন্তর্জাতিক দোসর, আমাদের মানবাধিকারের কি হবে? জবাব চাই’ শিরোনামে এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি তারানা হালিমের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের ছেলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, শহীদ সুলতানা কামালের ছোট ভাই গোলাম আহমেদ টিটু, ভাতিজি নেহরীন মোস্তফা দিশি, বীরঙ্গনা শেখ ফাতেমা আলী, পেট্রল বোমায় আহত খাদিজা নাসরিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আহসানুল হক প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘১৯৭১ সালের মানবাধিকার লঙ্ঘন, ৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা, ১৯৭৭ সালে অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা, জাতীয় চার নেতাকে হত্যা, প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা হয়েছে। কোথায় মানবাধিকার? এসব ঘটনার দ্রুত বিচার চাই। ২০১৩ থেকে ২০১৪ সালে অগ্নিসন্ত্রাস চালিয়ে অনেক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। যারা এসব মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে, তারাই আজ জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। দেশে তাদের রাজনীতি বন্ধ চাই। তাদের বিচার চাই।’

সমাবেশে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘মানবাধিকারের ব্যবসা যারা করেন, তাদের উদ্দেশে প্রশ্ন করতে চাই, ১৯৭১ সালে ৩০ লক্ষাধিক নিরীহ মানুষকে হত্যা, ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের হত্যা এবং পরবর্তীতে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা, জাতীয় চার নেতাকে হত্যা এবং পরবর্তীতে বিমান বাহিনী ও সেনাবাহিনীর অনেক কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে। জিয়াউর রহমান পেছনে থেকে তার লোকদের মাধ্যমে যখন অনেক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন, তখন কোথায় ছিল মানবাধিকার?’

মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘জাতির পিতার দুই কন্যা যখন দেশের বাইরে অনেক কষ্ট নিয়ে, দুঃখ নিয়ে, সমস্যা নিয়ে বসবাস করছিলেন, সেসময় মানবাধিকারের কথা ওঠে নাই। আমাদের জাতির পিতাকে হত্যার পর আওয়ামী লীগকে পাঁচটি বছর জিয়াউর রহমান ঘরে বন্দি করে রেখেছিল। আমাদের অনেক নেতাকর্মীরকে গুম-খুন করেছিল। তখন কোথায় ছিল মানবাধিকার?’

তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭৫ সালে আমার ছোট বোনের বয়স ছিল ১০ বছর। সে কিছু বুঝতো না। আমার বাবার সবচেয়ে প্রিয় সন্তান ছিল। সে বাবাকে হারিয়ে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল, সে শুধু তাকিয়ে দেখতো আর বলতো বাবা কোথায়? কেন তার বাবা আসছে না? মানবাধিকার নিয়ে এখন যারা কথা বলেন, তখন তাদের আমরা দেখিনি।’

খায়রুজ্জামান লিটন আরও বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের কিছু হলেই যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন খুঁজে পান, সেই তথাকথিত সুশীল সমাজকে বলতে চাই, মানবাধিকারের কথা আপনাদের মুখে শোভা পায় না। দেশের জন্য ক্ষতিকর কাজগুলোকে আপনারা সাপোর্ট দেন, আর ভালো কাজগুলোকে সাপোর্ট দেন না। যখন বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অসংখ্য ঘটনা ঘটে গেছে, সেই সময় আপনাদের আমরা পাশে পাইনি।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘যারা বিভিন্ন সংগঠন বা সংস্থার নামে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেন, যারা নির্বাচন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করতে চান, বিদেশিদের যারা প্রভাবিত করতে চান, বিদেশি দূতাবাসের মাধ্যমে নানা বানোয়াট কথাবার্তা ও চিঠি দেন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক চর্চা নেই ও বিরোধী দলকে দমন করা হচ্ছে, তাদের বলতে চাই, আপনারা যদি এটিকে বিরোধী দলকে দমন করা বলতে চান, তাহলে বিরোধী দল দিনের পর দিন পদযাত্রা, বিভিন্ন এলাকায় সমাবেশ করছে কীভাবে? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ দেশের উন্নয়ন ব্যাহত করবে, সেটি আমরা জীবন থাকতে হতে দেবো না।’