রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ছাত্রলীগ নেতাসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুই ছাত্রীকে প্রাণনাশের হুমকি ও তাদের বন্ধুদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
গত শুক্রবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটের পাশে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে শনিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী দুই ছাত্রী।
অভিযুক্তরা হলেন -বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উপ-ক্রীড়া সম্পাদক রাব্বিউল ইসলাম রূপক, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান, জিয়াউর রহমান হলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ফরহাদ হাসান।
অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তারা চার বন্ধুসহ তৃতীয় বিজ্ঞান ভবনের পাশের রাস্তা হয়ে পরিবহন মার্কেটের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় রাস্তায় পড়ে থাকা একটি নুড়িপাথরে লাথি মারেন এক ছাত্রী। পাথরটি গিয়ে ছাত্রলীগ নেতা ফিরোজের গায়ে লাগে। তাৎক্ষণিক ওই ছাত্রী তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। এসময় ফিরোজের সঙ্গে ছিলেন সোহরাওয়ার্দী হল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান ও ফরহাদ নামে এক সাবেক শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী ছাত্রী অভিযোগপত্রে আরও দাবি করেন, এ সময় তাদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। তার চার বন্ধু হত্যার হুমকির প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা কল করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উপ-ক্রীড়া সম্পাদক রাব্বিউল ইসলাম রূপককে ডেকে আনেন। পরে রূপরেকর নেতৃত্বেই ১৪-১৫ জন ছাত্রীদের চার বন্ধুকে মারধর করেন। এতে নাজমুস সাকিব শুভ ও রাকিবুল্লাহ রাকিব নামে তার দুই বন্ধু আহত হন। শুভকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তবে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযুক্ত তিন ছাত্রলীগ নেতা। তারা বলছেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ সাজানো।
অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা রাব্বিউল ইসলাম রূপক বলেন, ‘আমাকে ছোট ভাইরা ডেকেছিল। কিন্তু ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি দুই পক্ষই পরিচিত। মারধরের ঘটনা ঘটেনি।’
ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান বলেন, ‘হুমকির অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তবে সেদিন তাদের সঙ্গে একটু কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে একটু ধাক্কাধাক্কিও হয়। তবে মারধরের ঘটনা ঘটেনি।’
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘ঘটনাটি আমি শুনেছি। এতে আমাদের ছাত্রলীগের কয়েকজনের মধ্যে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। ইতোমধ্যে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি বর্তমানে ঢাকায় আছি। ক্যাম্পাসে গিয়ে বিষয়টি সমাধান করবো।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, ‘আমরা নবীনবরণে আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। তাই বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আজকে নবীনবরণ হলো। এখন এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’