নওগাঁয় র্যাবের হেফাজতে ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের অফিস সহকারী সুলতানা জেসমিনের (৪০) মৃত্যুর ঘটনায় তৈরি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাননি বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
রবিবার (২ এপ্রিল) বিকালে প্রতিবেদনটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের (রামেক) ফরেনসিক বিভাগ। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে জেসমিনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে কী উঠে এসেছে, তা নিয়ে কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
জেসমিনের মৃত্যুর পর ২৫ মার্চ রামেকের মর্গে তিন সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড মরদেহের ময়নাতদন্ত করে। এই বোর্ডের প্রধান ছিলেন রামেকের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. কফিল উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। আজ অফিস সময়ে তা পুলিশের কাছে হস্তান্তর হয়েছে।’
প্রতিবেদনে জেসমিনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে কী মতামত দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে ডা. কফিল উদ্দিন বলেন, ‘এটা একটা সিরিয়াস ইস্যু। এটা নিয়ে আমি সরাসরি কিছু বলতে পারবো না। আপনারা যদি কোনোভাবে প্রতিবেদন পান, তারপর কোনও বিষয় বুঝতে না পারলে আমি বুঝিয়ে দেবো। এখন এই বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না।’
তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাননি বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগরীর রাজপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুভাষ চন্দ্র বর্মন। তিনি বলেন, ‘আমি রিপোর্ট হাতে পাইনি। এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন আপনারা।’
এদিকে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পুলিশের কাছে এসেছে বলে শুনেছেন এমন কথা জানালেন রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন। তিনি বলেন, ‘আমি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে শুনলাম যে রিপোর্ট এসেছে। এখন কী রিপোর্ট এসেছে, সেটা আমি জিজ্ঞেস করিনি। রিপোর্ট কোর্টে গেলে সবাই জানতে পারবেন।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজশাহী নগর পুলিশের কমিশনার আনিসুর রহমান বলেন, ‘জেসমিনের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এসেছে কিনা, তা আমি জানি না। এটা তো আমার পর্যায়ে আসার কথাও না। আপনারা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন।’
গত ২২ মার্চ সকালে নওগাঁ থেকে জেসমিনকে আটক করে র্যাব-৫-এর জয়পুরহাট ক্যাম্পের একটি দল। স্থানীয় সরকারের রাজশাহী বিভাগের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. এনামুল হকের মৌখিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে আটক করা হয়।
এনামুল হকের অভিযোগ, জেসমিন ও আল-আমিন তার ফেসবুক আইডি হ্যাক করে চাকরি দেওয়ার নামে বিভিন্ন জনের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এভাবে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন তারা।
এদিকে, আটকের পর ২৪ মার্চ সকালে রাজশাহী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জেসমিন মারা যান। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। জেসমিনের মৃত্যুর পরদিন ২৫ মার্চ রামেকের মর্গে ময়নাতদন্ত করা হয়। এরপর কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে জেসমিনের মরদেহ গোসল করানো হয়। পরে কাফন পরানো মরদেহ কফিনে করে নওগাঁয় নিয়ে যায় র্যাব। সেখানে র্যাবের উপস্থিতিতেই মরদেহ দাফন করেন স্বজনেরা।
মৃত্যুর দিন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের একজন নারী সহকারী কমিশনার জেসমিনের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। কিন্তু জেসমিনের শারীরিক অবস্থার অনেক কিছুই সুরতহাল প্রতিবেদনে উঠে আসেনি। ময়নাতদন্তের সময় মর্গে তা খেয়াল করেন সেদিন দায়িত্বে থাকা মেডিক্যাল অফিসার ডা. তাজনীন জাহান। তারপর তিনিই বিভাগীয় প্রধানকে ডাকেন। বিভাগীয় প্রধান ডা. কফিল উদ্দিন আরেক প্রভাষককে নিয়ে মর্গে যান এবং বোর্ড গঠন করে ময়নাতদন্ত করেন। সবশেষে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।
অপরদিকে, জেসমিনের মৃত্যুর পর রাজশাহীর রাজপাড়া থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যুগ্ম সচিব এনামুল হকের করা একটি মামলার কথা জানা যায়, যেটি রেকর্ডের সময় ২৩ মার্চ। জেসমিন ও তার কথিত সহযোগী আল-আমিনকে মামলার আসামি করা হয়। আল-আমিনকে ২৬ মার্চ ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে র্যাব। তিনি একজন মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট।