বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য এ কে এম আসাদুর রহমান দুলুর বিরুদ্ধে এক কোটি ছয় লাখ ১৩ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তিনি ৮০ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ঘোষণা দিয়েছেন।
দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তারিকুর রহমান বুধবার (৫ এপ্রিল) নিজ কার্যালয়ে এ মামলা করেন। বৃহস্পতিবার বিকালে দুদকের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আসাদুর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে তাকে সম্পদের বিবরণী দাখিলের জন্য বলা হয়। এ বিষয়ে ২০২০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বিবরণী দাখিলের আদেশ জারি করা হয়। ওই বছরের ২৫ জুন সম্পদের বিবরণী দাখিল করেন। এতে তিনি এক কোটি ৮২ লাখ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ ও এক কোটি ১০ লাখ ৫২ হাজার ২৬৯ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদসহ মোট দুই কোটি ৯২ লাখ ৫২ হাজার ২৬৯ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য দেন।
যাচাইকালে তার নামে দুই কোটি ৫২ লাখ পাঁচ হাজার ৪২২ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং এক কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭৮৭ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদসহ মোট তিন কোটি ৭২ লাখ ৭৭ হাজার ২০৯ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। আসাদুর রহমান ৮০ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ঘোষণা করে দুদক আইনের ২৬ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
এ ছাড়া ব্যয়/খরচসহ তার নামে অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় তিন কোটি ৭৭ লাখ ৬৫ হাজার ৯২৬ টাকা। উক্ত সম্পদ অর্জনের বিপরীতে তার মোট গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় দুই কোটি ৭১ লাখ ৫২ হাজার ৩৬ টাকা। এ ক্ষেত্রে তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত এক কোটি ছয় লাখ ১৩ হাজার ৮৯০ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জন করে তা নিজ ভোগ দখলে রেখে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২৭ (১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
তিনি দাখিল করা সম্পদের বিবরণীতে ৮০ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকার তথ্য গোপনসহ এক কোটি ছয় লাখ ১৩ হাজার ৮৯০ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে তা নিজ ভোগ দখলে রেখে আয়ের উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশ্য স্থানান্তর ও রূপান্তর করে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪ (২) (৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
এই বিষয়ে আসাদুর রহমান দুলু দাবি করেন, সম্পদের বিবরণীতে তিনি তার সব জানিয়েছেন। কোনও তথ্য গোপন করা হয়নি। দুদক মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে বিরুদ্ধে মামলা করেছে।