জজের পর সেই প্রধান শিক্ষিকাকে ওএসডি, দোষী হলে আইনি ব্যবস্থা

বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মাকে বিচারকের পা ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার ঘটনায় জজের পর এবার প্রধান শিক্ষিকা রাবেয়া খাতুনকে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাবেয়া খাতুনকে ঢাকায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে যোগ দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

রবিবার (৯ এপ্রিল) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মাধ্যমিক শাখার মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘প্রজ্ঞাপনে বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাবেয়া খাতুনকে ঢাকায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে যোগ দিতে বলা হয়েছে।’

এদিকে এই খবরে স্বস্তির মিলেছে স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। তারা প্রধান শিক্ষিকাকে শুধু বদলি নয়; জজকে প্রশ্রয় দেওয়ায় তাকে বরখাস্ত ও ঘটনায় জড়িত অন্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রীর অভিভাবককে অপদস্থ করার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি এই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এর আগে গত ১৮ মার্চ বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ রুবাইয়া ইয়াসমিনকে প্রত্যাহার করে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার করা নিয়ে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ রুবাইয়া ইয়াসমিনের মেয়ের সঙ্গে কয়েকজন সহপাঠীর বাগবিতণ্ডা হয়। এ নিয়ে গত ২১ মার্চ সকালে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার উপস্থিতিতে ছাত্রীর মাকে অপদস্থ করেন জজ। তাকে পা ধরতে বাধ্য ও ছাত্রীদের থাপ্পড় দিয়ে দাঁত ফেলে দেওয়াসহ বিভিন্ন আপত্তিকর কথা বলেন। 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কয়েকদিন আগে গণমাধ্যমে তিন পৃষ্ঠার চিঠি পাঠান জজ রুবাইয়া ইয়াসমিন। কিন্তু সম্প্রতি ফাঁস হওয়া একটি অডিওতে ওই ঘটনায় জজ, প্রধান শিক্ষিকা, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সিনিয়র শিক্ষক ও পুলিশের ভূমিকা স্পষ্ট হয়। 

জজ তার লেখায় মেয়েকে নির্দোষ দাবি করলেও তার কথোপকথনে ভিন্ন কথার প্রমাণ মিলেছে। অডিওতে শোনা যায় জজ শিক্ষার্থীদের শাসাতে থাকেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের থাপ্পড় মেরে সব দাঁত ফেলে দেওয়ার কথা বলেন। সেইসঙ্গে বলেন, জজ মানে জানিস, জজ শব্দ বানান করতে পারবি? বানান করে লিখে দেখা। এমন অনেক আপত্তিকর শব্দ অডিওতে শোনা যায়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে স্কুলের ছাত্রীরা ওই দিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত স্কুলের সামনে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন। তারা অভিভাবককে পা ধরতে বাধ্যকারী জজ ও তাকে প্রশ্রয়দানকারী প্রধান শিক্ষিকা এবং অন্যদের শাস্তির দাবি জানান। এ অবস্থায় জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে জড়িতদের শাস্তির আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ঘরে ফিরে যান।

তদন্ত কমিটির অন্যতম সদস্য জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হজরত আলী বলেন, ‘প্রধান শিক্ষিকা রাবেয়া খাতুনকে ওএসডি করার কোনও চিঠি এখনও হাতে পাইনি। তিনি ওএসডি হলেও কমিটির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। আর তদন্তে যার অপরাধ প্রমাণ হবে তার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষিকা রাবেয়া খাতুনকে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি।