দ্বিতীয় স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

বগুড়ার শিবগঞ্জে যৌতুক না পেয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী হাসিনা বিবিকে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে আকবর আলী মন্ডল (৫৮) নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণ না হওয়া তার প্রথম স্ত্রী ও দুই ছেলেকে খালাস দিয়েছেন আদালত। হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১১ বছর পর মঙ্গলবার (২ মে) বিকালে বগুড়ার দ্বিতীয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর এ রায় দেন।

আদালতের স্পেশাল পিপি আশেকুর রহমান সুজন জানান, আকবর আলী মন্ডল বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নের বেলাই কেকারপাড়া গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিন মন্ডলের ছেলে। তিনি ঘটনার প্রায় পাঁচ বছর আগে পার্শ্ববর্তী বলরামপুর গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের মেয়ে হাসিনা বিবিকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে এক লাখ টাকা যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন করে আসছিলেন। এ নিয়ে মামলা হলেও পরে মীমাংসার
মাধ্যমে হাসিনা বিবি সংসার ফিরে আসেন। এর এক বছরের মাথায় গত ২০১২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে স্বামী যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর হত্যাকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতে লাশ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুঁলিয়ে দেন। পরদিন শিবগঞ্জ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই লোকমান হোসেন নওফেল থানায় আকবর মন্ডল, তার প্রথম স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন এবং দুই ছেলে এনামুল হক ও আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। আসামিরা গ্রেফতার হলেও পরে জামিনে ছাড়া পান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন ইন্সপেক্টর এ কে এম লুৎফর রহমান ২০১৩ সালের ২৬ জানুয়ারি আদালতে চার জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য শেষে মঙ্গলবার বিকালে আদালত আকবর আলী মন্ডলকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেন।

এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় প্রথম স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন ও দুই ছেলে এনামুল হক ও আনোয়ার হোসেনকে খালাস দেন। এদের মধ্যে আসামি এনামুল হক পলাতক ছিলেন। বাদীপক্ষ এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। 
আসামির স্বজনরা জানান, তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট আবদুল বাছেদ মামলা পরিচালনা করেন।