তালোড়া পৌর নির্বাচন

বিএনপির বহিষ্কৃত ৫ নেতা কাউন্সিলর নির্বাচিত

বগুড়ার তালোড়া পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত পাঁচ নেতা। পাশাপাশি বহিষ্কৃত অপর ছয় কাউন্সিলর প্রার্থী হেরেছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় গত ১৩ জুন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত চিঠিতে দলের ১২ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এর মধ্যে মেয়র পদে জয় পেয়েছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত আবদুল জলিল খন্দকার। 

বুধবার (২১ জুন) রাতে তালোড়া পৌর নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান নির্বাচনি ফল ঘোষণা করেন। এর আগে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রকাশিত ফলে দেখা গেছে, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ছয় নেতা জয়ী হয়েছেন, অপর ছয় নেতা হেরেছেন।

বহিষ্কৃতরা হলেন—তালোড়া পৌর বিএনপির সভাপতি আবদুল জলিল খন্দকার, সাবেক সভাপতি ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য আবু হোসেন সরকার আবুল, পৌর বিএনপির সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সোনিয়া রাজভর, পৌর বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল মান্নান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু হাসান আজাদ, ইসরাফিল হোসেন খান, সহ-স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক হাসিম প্রামাণিক, সহ-কোষাধ্যক্ষ সম্পাদক তানভীর আহম্মেদ ফেরদৌস, সদস্য মারুফ হাসান, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি হারুন অর রশিদ তরফদার, ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম সাখিদার মুকুল ও পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুল জলিল প্রামাণিক।

এর মধ্যে নির্বাচিত ছয় জন হলেন—মেয়র পদে আবদুল জলিল খন্দকার, সংরক্ষিত ৩ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর সোনিয়া রাজভর, ১ নম্বর ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর সৈয়দ আবু হাসান আজাদ, ২ নম্বর ওয়ার্ডে ইব্রাহিম সাখিদার মুকুল, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ইসরাফিল হোসেন খান ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে হাসিম প্রামাণিক। বাকি ছয় নেতা হেরেছেন।

বহিষ্কৃতদের দলে ফেরানো হবে কিনা জানতে চাইলে দুপচাঁচিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুল ইসলাম খান স্বপন বলেন, ‘তালোড়া পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ভালো ছিল না। তাই ভোটাররা বিএনপির বহিষ্কৃত আবদুল জলিল খন্দকারকে মেয়র নির্বাচিত করেছেন। দলের সঙ্গে বেইমানি করে এই সরকারের পাতানো নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তারা। তাই তাদের আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে সারাদেশে যখন বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা-মামলা, গুম-খুনের শিকার হচ্ছেন, তখন মেয়র-কাউন্সিলর হওয়ার লোভে যারা দলের সঙ্গে বেইমানি করেছেন, তাদের দলে ফেরানোর কোনও সুযোগ নেই।’