ব্যবসায়ীকে হত্যার ১০ বছর পর ৫ জনের যাবজ্জীবন

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধে ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান লিটনকে কুপিয়ে হত্যা মামলায় তিন ভাইসহ পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

রবিবার দুপুরে বগুড়ার দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ কামরুল হাসান খান এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি কাজী রবিউল আলম মিঠু এ তথ্য দেন।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার জিয়ানগর ইউনিয়নের বারাহী গ্রামের আশরাফ আলীর তিন ছেলে সাইফুল ইসলাম, বুলু ইসলাম ও লুৎফর রহমান, একই গ্রামের মিজান উদ্দিনের ছেলে বায়েজিদ হোসেন এবং জসিম উদ্দিনের ছেলে শহিদুল ইসলাম। এদের মধ্যে বায়েজিদ হোসেন পলাতক রয়েছেন।

আদালত সূত্র জানায়, ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান লিটন দুপচাঁচিয়া উপজেলার বারাহী গ্রামের আকরাম আলীর ছেলে। তার সঙ্গে জমি নিয়ে চাচাতো ভাইদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। তিনি ২০১৩ সালের ১ মে রাত ১২টার দিকে বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে সাত আসামি তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে নিহতের বড় ভাই জুলফিকার আলী দুপচাঁচিয়া থানায় সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ বিভিন্ন সময় আসামিদের গ্রেফতার করে। পরে তারা সবাই জামিনে ছাড়া পান। এদের মধ্যে বায়েজিদ ও শহিদুল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই দুলাল তাদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এছাড়া মামলা চলাকালে দুই আসামি মারা যান।

আদালত সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১০ বছর পর পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত বায়েজিদ পলাতক রয়েছেন। গ্রেফতারের পর তার সাজা কার্যকর হবে।