মাদ্রাসায় শিশু ছাত্রকে হত্যা মামলায় অপর শিশু পুলিশ হেফাজতে

বগুড়ার শেরপুরে হাফেজিয়া মাদ্রাসায় পূর্ব শত্রæতার জেরে মক্তব শাখার ছাত্র কাউসার আলীকে (৮) হেফজ বিভাগের ছাত্র (১৩) গলায় রশির ফাঁস দিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত শিশুর বাবা বুধবার রাতে শেরপুর থানায় হত্যা মামলা করলে পুলিশ আরেক শিশুকে হেফাজতে নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে শিশু আদালতে হাজির করলে বিচারক বয়স নির্ধারণ করে যশোরের পুলেরহাটে শিশু-কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গত বুধবার সকালে উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের শেরুয়া বটতলা এলাকায় তাহসীনুল কোরআন আদর্শ হাফিজিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও এজাহার সূত্র জানায়, নিহত শিশু কাউসার আলী বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বেলতা গ্রামের ফরিদ উদ্দিনের ছেলে। কাউসার ওই মাদ্রাসায় মক্তব বিভাগে নূরানী কায়দা পড়তো। পুলিশ হেফাজতে নেওয়া শিশুটি হেফজ বিভাগে পড়ে। খেলা নিয়ে বিরোধের জের ধরে হেফজ বিভাগের ওই শিশু বুধবার সকালে নাশতার বিরতি চলাকালে কাউসারের গলায় রশি পেঁচিয়ে ফাঁস দেয়। এতে সে শ্বাসরোধে মারা যায়। পরে কাউসারের লাশ পড়ে থাকতে দেখে শেরপুর থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। সুরতহালে তার গলায় দাগ দেখা যায়। পরে জানা যায়, হেফজ বিভাগের ওই ছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে কাউসারকে হত্যা করেছে।

এ ব্যাপারে কাউসার আলীর বাবা ফরিদ উদ্দিন বুধবার রাতে শেরপুর থানায় ওই ছাত্রের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। এরপর তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিথুন সরকার জানান, জিজ্ঞাসাবাদে ওই শিশু শত্রুতাবশত মক্তব বিভাগের কাউসারকে হত্যা করে বলে স্বীকার করে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে বগুড়ার শিশু আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক বয়স নির্ধারণ করে তাকে যশোরের পুলেরহাটে শিশু কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।