এদিকে বিক্ষোভের কারণে পুরো কারখানা অঘোষিতভাবে বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে কাঁচা পণ্য সরবরাহকারীরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে লাখ লাখ টাকার কাঁচামাল পঁচে যাওয়ার আশঙ্কা করছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
আহত একজনকে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা জানায়, শহরতলীর একডালা এলাকায় স্থাপিত প্রাণ অ্যাগ্রো লিমিটেড কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের ১২ ঘণ্টার কাজ করিয়ে ১১ঘণ্টার বেতন-ভাতা দিয়ে আসছে। তাছাড়া ওভারটাইম ডিউট ঘণ্টায় ১৯ টাকা থেকে কমিয়ে ১৬ টাকায় করা হয়েছে। এতে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তারা বুধবার সন্ধ্যায় কারখানার ভেতর বিক্ষোভ মিছিল করে । পরে মিছিলে বিভিন্ন ইউনিটের শ্রমিকরা যোগ দিয়ে একাডেমিক ভবন, টেস্টিং ল্যাব, মেডিক্যাল সেন্টার, ক্যান্টিনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায়। রাতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কারখানায় এসে শ্রমিকদের শান্ত করে।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে আবারও শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে কারখানার ভেতর ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল, জেলা প্রশাসক খলিলুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাজী আতিয়ুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুন্সী সাহাবুদ্দিন, সদর সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রাণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দাবি দাওয়া পূরণের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা শান্ত হয়।
শ্রমিক ফয়সাল হোসেন ও আব্দুল মজিদ জানান, শ্রমিকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাণ শ্রমিকদের শোষণ করে কোটি কোটি টাকা ইনকাম করলেও শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই দাবি আদায় না হওয়ায় পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
প্রাণ অ্যাগ্রো কারখানার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সারোয়ার হোসেন জানান, আন্দোলনকারী শ্রমিকরা কারখানার কাজে নিয়োজিত বিভিন্ন গাড়ি ভবন, আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছেন। তাদের আন্দোলনের সুযোগে একাডেমিক ভবনের মালামালসহ টাকা লুট করা হয়েছে। তবে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিক জানাতে পারেননি তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শ্রমিকরা যেসব দাবি করছেন সেগুলো অযৌক্তিক। আন্দোলনের নামে তারা কারখানার কোটি কোটি টাকার ক্ষতি করছে।
সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান ও এসআই জুয়েল জানান, শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুর থামাতে গিয়ে ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। এদের মধ্যে মিজান নামে একজনকে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নাটোর সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানান, শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে প্রাণের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।এছাড়া যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবেলায় কারখানা এলাকায় অতিরিক্তি পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাজী আতিয়ুর রহমান জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
কারখানা কর্তৃপক্ষ জানান, শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে সকল ধরনের পণ্য উৎপাদন বন্ধ রয়েছে কারখানাটিতে। কারখানা বন্ধ থাকায় টমেটোসহ বিভিন্ন কাঁচা পণ্যের সরবরাহকারীরা বিপাকে পড়েছেন। দু’একদিনের মধ্যে পরিস্থিতি শান্ত না হলে সকল কাঁচা পণ্য পঁচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে নাটোরের মাদ্রাসা মোড় এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে প্রাণ অ্যাগ্রো লিমিটেড। এতে বক্তব্য রাখেন প্রাণের পরিচালক ইলিয়াস মৃধা। এসময় নাটোর প্রাণ অ্যাগ্রোর চিফ অপারেটিং অফিসার নাসের এবং প্রাণ অ্যাগ্রোর প্রধান কার্যালয়ের চিফ অপারেটিং অফিসার শেখ সাজ্জাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
ইলিয়াস মৃধা বলেন, যে তাণ্ডব ও ভাঙচুর হয়েছে তাতে কোম্পানির প্রায় কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনা কোনও শ্রমিক ঘটায়নি। বহিরাগত কিছু লোকজন এগুলো করেছে । যারা প্রকৃত দোষী তাদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
শ্রমিকদের বেতন ও ওভারটাইম প্রসঙ্গে মৃধা বলেন, এটা আসলে কম্পিউটার সিস্টেমের ভুল ইনপুট দেওয়ার কারণে হয়েছে। সমস্যা দ্রুতই সমাধান করে শ্রমিকদের বেতন ও ওভারটাইম আগের মতন দেওয়া হবে।
/এআর/