আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন এলেই ষড়যন্ত্রকারীরা মানুষকে নানাভাবে বিভ্রান্ত করে, অস্থিরতা তৈরি করে, আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। শুধু রাজপথে নয়, তারা ঘরে যেমন সক্রিয়, বিদেশি দূতাবাসেও সক্রিয়।’
তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে বিএনপির চার নেতা সিঙ্গাপুরে। চার জন একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে সিঙ্গাপুরে গেছেন, এটি মেনে নেওয়ার মতো না, এতো বোকা দেশের মানুষ নয়। তারা সেখানে দেনদরবার করতে গেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের বলে গেছেন, ফিরে এসে সরকার পতনের লাগাতার আন্দোলন করবেন। লাগাতার আন্দোলন ৮-৯ বছর আগে করেছিলেন তাদের নেত্রী খালেদা জিয়া। যা আলোর মুখ দেখেনি। এখনও লাগাতার আন্দোলন দিয়ে আওয়ামী লীগের পতন ঘটানো সম্ভব নয়।’
সোমবার (২৮ আগস্ট) বিকালে রাজশাহীর সাগরপাড়া মোড়ে জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্টে শহীদের স্মরণে মহানগর শ্রমিক লীগ আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের শিকড় অনেক গভীরে, আওয়ামী লীগকে উপড়ানো তো দূরের কথা, একটি ডালও ভাঙা সম্ভব নয়। ১৯৭৫ সাল পরবর্তী চরম দুঃসময়েও আওয়ামী লীগ টিকে থেকেছে। দীর্ঘদিন লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় এনেছে। এই আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করা কখনও সম্ভব নয়।’
এই শোকের মাসে শোককে শক্তিতে পরিণত করে জনগণের রায়ে শেখ হাসিনাকে আবারও ক্ষমতায় আনবো উল্লেখ করে মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে প্রয়োজনে মানুষের বাড়ি বাড়ি যেতে হবে, ভোট চাইতে হবে। উন্নয়নের অনেক কাজ এখনও বাকি। সেগুলো শেষ করতে পারলে ইউরোপ-আমেরিকার মতো উন্নত দেশে পরিণত হবো আমরা। সেই সুযোগ আমাদের রয়েছে, তার জন্য আমাদের দরকার শেখ হাসিনাকে আবারও প্রধানমন্ত্রী বানানো।’
সভায় সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে জাতীয় শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর কুতুব আলম মান্নান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয় নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রতিশোধ সেদিন নেওয়া যাবে, যেদিন আমরা আবারও শেখ হাসিনাকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনতে পারবো।’
শ্রমিক লীগের মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. ওয়ালী খানের সভাপতিত্বে সভায় রাজশাহী আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক হোসেন ও আহসানুল হক পিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক আসলাম সরকার, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা সম্পাদক ফ.ম.আ ডা. জাহিদ, শ্রম সম্পাদক আব্দুস সোহেল ও কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মীর তৌফিক আলী ভাদু উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনা করেন জাতীয় শ্রমিক লীগ মহানগরের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাশেদুজ্জামান রাশেদ।