পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা জালিয়াতি করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ইউপি সদস্য থাকার সুবাদে ভাতার কার্ডে নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে দুই বছর ধরে এসব টাকা তুলছেন তিনি।
এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে সোমবার (০৪ সেপ্টেম্বর) পাবনা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী। তিনি ওই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভাদুরিয়া ডাঙ্গীর মৃত কেসমত শেখের ছেলে দিলবার শেখ। অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান বাবু চরতারাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া অভিযোগে থেকে জানা গেছে, দুই বছর আগে শারীরিক প্রতিবন্ধী দিলবার শেখের নামে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করা হয়। কার্ডের বিষয়ে কিছুই জানতেন না দিলবার। সম্প্রতি ভাতার কার্ডের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গেলে তার নামে কার্ড আছে বলে জানানো হয়। পরে কার্ডে দেওয়া মোবাইল নম্বর ও অ্যাকাউন্ট যাচাই করে দেখেন, এটি মেম্বার মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর নম্বর। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ভাতার টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) মোস্তাফিজুর রহমান বাবু বলেন, ‘এখন একটু ব্যস্ত আছি, পরে দেখা হলে কথা বলবো।’ এরপর একাধিকবার তার মোবাইল নম্বরে কল দিলেও রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পেয়েছি। ইউএনও এ বিষয়ে অবগত আছেন। বিষয়টির তদন্ত চলছে। অভিযুক্ত মেম্বারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবো আমরা।’
এ ঘটনায় মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাসান শাহিন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমরা শুনেছি। তবে এখনও ভুক্তভোগীর অভিযোগ পাইনি। অবশ্যই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’