বগুড়ায় সংঘর্ষ-গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির ৪৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

বগুড়ায় রবিবার হরতালের সমর্থনে মিছিল চলাকালে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও পুলিশের সংঘর্ষ, হামলা, ইউএনওর সরকারি গাড়ি ভাঙচুর, পুলিশের কাজে বাধার অভিযোগে চারটি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাত আরও অনেক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

এর মধ্যে রবিবার রাতে তিনটি এবং সোমবার (৩০ অক্টোবর) সকালে একটি মামলা করা হয়। পুলিশ বাদী হয়ে দুটি এবং ইউএনওর গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় আনসার সদস্য বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। এই তিন মামলায় আসামির সংখ্যা ৪৩ জন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর ওপর হামলার ঘটনায় জেলা ছাত্রলীগ নেতা আল রাজি জুয়েল আরেকটি মামলা করেন। এ মামলায় আসামির সংখ্যা জানায়নি পুলিশ।

বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরাফত ইসলাম বলেন, ‌‘চার মামলায় অজ্ঞাত অনেক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার দেখানো হয়নি।’

মামলার এজাহার, পুলিশ ও বিএনপি সূত্রে জানা যায়, বিএনপি-জামায়াতের ডাকা হরতালের সমর্থনে রবিবার সকাল ৯টার দিকে বগুড়া শহরের নবাববাড়ি সড়কে জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে কিছু নেতাকর্মী মিছিল বের করেন। সদর পুলিশ ফাঁড়ির সামনে মিছিলে বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে রানা প্লাজার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ লাগে। পরে পুলিশ শটগানের ২০টি গুলি ছুড়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় রবিবার রাতে সদর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক খোরশেদ আলম বাদী হয়ে বিএনপির ১০ নেতাকর্মীকে আসামি করে সরকারি কাজে বাধা ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন। মামলায় পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, ককটেল হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। হামলায় সদর থানার ওসি সাইহান ওলিউল্লাহ আহত হয়েছেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।

রবিবার বেলা ১১টার দিকে বগুড়ার ফতেহ আলী বাজারের সামনে গালাপট্টি সড়ক মোড়ে হরতাল সমর্থনকারীরা অবস্থান নেন। এ সময় মুন হোমিও হলের সামনে গালাপট্টি গোল চত্বরে অবস্থান নেয় পুলিশ। ১০০ গজের মধ্যে হরতাল সমর্থনকারী ও হরতালবিরোধীদের মুখোমুখি অবস্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পাল্টাপাল্টি ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ লাগে। এ সময় কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। পরে পুলিশ টিয়ারশেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আল রাজিসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। সোমবার বিকালে আল রাজি বাদী হয়ে সদর থানায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে মামলা করেন। তবে মামলায় আসামির নাম ও সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।

রবিবার সকাল থেকে সদর উপজেলার গোকুল খোলারঘর এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে যানবাহন থামিয়ে পিকেটিং করছিলেন হরতাল সমর্থকরা। এ সময় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। একপর্যায়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফিরোজা পারভীনের সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইউএনওর সঙ্গে থাকা আনসার সদস্য জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে সদর থানায় ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। 

একই দিন গোকুল খোলারঘর এলাকায় হরতাল সমর্থকরা ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে অবস্থান না ছাড়লে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়া থেকে ডিবির একটি টহল দল সেখানে গিয়ে শটগানের গুলি ছোড়ে। এ সময় এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। এ খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। একপর্যায়ে গোকুল খোলারঘর জামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বলা হয়। একটু পর শত শত নারী-পুরুষ মহাসড়কে অবস্থান নেন। এ সময় গ্রামবাসী পুলিশকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল ছোড়েন। পুলিশও গ্রামবাসীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে আরও তিন শিশু এবং এক রিকশাচালক গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধার অভিযোগে সদর থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ রুম্মান হাসান বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় বিএনপি নেতা মিজানুর রহমানসহ ১৯ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে অনেককে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শটগানের ২৫টি গুলি ছোড়া হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়। 

সদর থানার ওসি সাইহান ওলিউল্লাহ বলেন, ‘সহিংসতার ঘটনায় সদর থানায় পৃথক চারটি মামলা হয়েছে। মামলার আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’

জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সুলতান মাহমুদ খান রনি বলেন, ‘হরতাল চলাকালে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের হামলায় আমাদের দফতর সম্পাদক আল রাজি জুয়েলসহ অনেকে আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দফতর সম্পাদক বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন।’ 

আরও পড়ুন: বগুড়ায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ২৭