বগুড়ায় পুলিশের উপর হামলার ২ মামলায় বিএনপির ৫৫ জন আসামি

বিএনপি-জামায়াতের দ্বিতীয় দফা অবরোধের প্রথমদিন রবিবার (৫ নভেম্বর) বগুড়া শহরতলির বেলাইল ও ঝোপগাড়িতে পুলিশের উপর ককটেল হামলার ঘটনায় পুলিশ সদর থানায় দুটি মামলা করেছে। সোমবারের (৬ নভেম্বর) এসব মামলায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ৫৫ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত অনেককে আসামি করা হয়েছে। এ নিয়ে দুই দফা অবরোধ কর্মসূচিতে ১২টি মামলায় আসামি করা হয়েছে, ৩৮২ জনকে। অজ্ঞাত রয়েছে আরও অনেকে।

বগুড়া সদর থানার ওসি সাইহান ওলিউল্লাহ জানান, অবরোধকারীরা রবিবার সকালে শহরতলির বেলাইল ও ঝোপগাড়ি এলাকায় মহাসড়কে পুলিশের ওপর ককটেল হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও সরকারি কাজে বাধা দেয়। এসব ঘটনায় সোমবার পৃথক দুটি মামলায় ৫৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। অনেক অজ্ঞাত আসামি রয়েছে। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, রবিবার সকাল ৮টার দিকে অবরোধ চলাকালে পুলিশের স্কট ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে সহযোগিতা করছিল। এ সময় শহরতলির বেলাইল এলাকায় একটি গলি থেকে বেশ কয়েকজন মহাসড়কে এসে শিশু খাদ্য (দুধ) পরিবহন, কুরিয়ার সার্ভিসের গাড়িসহ সাতটি গাড়ি ভাংচুর করে। পুলিশ বাধা দিলে তারা চার-পাঁচটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। তখন পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

তবে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কেএম খায়রুল বাশার দাবি করেন, ওই সময় পুলিশ রাইফেল দিয়ে অবরোধকারীদের উপর গুলিবর্ষণ করে। এতে বগুড়া পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মাহবুব আলমসহ চার নেতাকর্মী আহত হন।

তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) স্নিগ্ধ আখতার জানান, তারা কোন গুলিবর্ষণ করেননি। ককটেল হামলাকারীদের টিয়ারশেল ছুঁড়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তাদের কেউ আহত হলে সেটা নিজেদের ককটেলের আঘাতে হয়েছে। শহরতলির বেলাইল এলাকায় ওইদিনের ঘটনায় বগুড়া সদর থানার এসআই স্বপন মিয়া বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ২৮ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।

এছাড়া বেলা সোয়া ১০টার দিকে শহরের ঝোপগাড়ী এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে আটকে পড়া কয়েকটি যানবাহন পুলিশ প্রহরায় গন্তব্যে যাচ্ছিল। তখন অবরোধকারীরা কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করে। পুলিশ বাধা দিলে তারা লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায় ও সরকারি কাজে বাধা দেয়। পুলিশ টিয়ারশেল ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। এ ব্যাপারে সদর থানার এসআই জাকির আল আহসান বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ২৭ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। দুটি মামলায় অজ্ঞাত অনেককে আসামি করা হয়েছে।

বগুড়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কেএম খায়রুল বাশার জানান, তারা এক দফা দাবিতে শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন। কিন্তু পুলিশ নির্বিচারে গুলিবর্ষণ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করছে। এতে মাহবুব আলমসহ অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পুলিশ দু’দফা অবরোধে অন্তত ৪০০টি গায়েবি মামলা করেছে। গ্রেফতার করা হয়েছে, দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে। অজ্ঞাত অনেককে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের গ্রেফতার ও  হয়রানি এড়াতে নেতাকর্মীরা গা ঢাকা দিয়েছেন।