নওগাঁয় নৌকার প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নওগাঁয় নৌকা প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের হিড়িক পড়েছে। এ ছাড়া নৌকার প্রার্থীদের প্রাথমিক সতর্কবার্তাও প্রদান করা হচ্ছে।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সোমবার (১১ ডিসেম্বর) নওগাঁ-১ (পোরশা-সাপাহার-নিয়ামতপুর) আসনে নৌকার প্রার্থী খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারকে নোটিশ আর নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের বর্তমান এমপি ও নৌকার প্রার্থী ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দিন জলিলকে সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি নওগাঁর চেয়ারম্যান ইফতেখার শাহরিয়ার স্বাক্ষরিত এক নোটিশের মাধ্যমে জানা গেছে, গত ৪ ডিসেম্বর বিকালে নওগাঁ-১ আসনে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার পোরশা উপজেলার সরাইগাছী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে কর্মী সমাবেশের আয়োজন করে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন মর্মে যে অভিযোগ পাওয়া গেছে সে আপনার সাক্ষ্য প্রদানের জন্য অন্যান্য সাক্ষ্য এবং সাক্ষী (যদি থাকে) সহ নির্বাচনি তদন্ত কমিটি নওগাঁ-১ এর অস্থায়ী কার্যালয়ে আগামী ১৭ ডিসেম্বর সশরীরে উপস্থিত থাকার জন্য নোটিশটি প্রদান করা হলো।

অপরদিকে নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের এমপিকে সতর্ক করে নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার এস এম রবিন শীষ স্বাক্ষরিত এক সতর্ক বিজ্ঞপ্তি সোমবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, নিজাম উদ্দিন জলিল জন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-৫ আসনে একজন প্রার্থী। তিনি গত ৮ ডিসেম্বর শুক্রবার শহরের চক এনায়েত এলাকার হিরো টাউন দারুস সালাম জামে মসজিদের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং একইদিনে দুবলহাটী ইউনিয়নের মাতাসাগর হাটে নির্বাচনি জনসভা করেন যা জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিধিমালা ২০০৮ এর বিধি-১২ অনুযায়ী নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন।

এই জন্য তাকে সতর্ক করা হয়েছে। অন্যথায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই বিজ্ঞপ্তিতে। এর আগে নওগাঁ-২ (ধামইরহাট-পত্নীতলা) আসনের বর্তমান এমপি ও আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী শহিদুজ্জামান সরকার ও জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেনকে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অপরাধে শোকজ করা হয়েছিল।

নির্বাচন কমিশনের জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণবিধির ১২ ধারায় বলা আছে, কোনও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা তার মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তার পক্ষে অন্যকোনও ব্যক্তি ভোট গ্রহণের জন্য নির্ধারিত তিন সপ্তাহ সময়ের আগে কোনও ধরনের নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করতে পারবেন না। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ হবে। এর আগে ভোটের প্রচার চালানোর সুযোগ নেই বলে জানান জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটানিং কর্মকর্তা মো. গোলাম মওলা।