রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেছেন, ‘কেউ কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দিতে পারবে না। ভোটে কোনও ধরনের জালিয়াতিও হবে না। ভোটে অনিয়ম হবে না, মানে হবে না। ভোট হবে ভোটের মতো। আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশি তাকে দেবো- এর ব্যতিক্রম হলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’
শনিবার (৬ জানুয়ারি) সকালে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সে প্যারেড ব্রিফিংয়ে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া পুলিশ ও আনসার সদস্যদের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেছেন।
পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘কোনও ভোটারকে কেউ বাধা দিতে পারবে না। ভোটার কেন্দ্রে যাবেন, নিজের মতো করে ভোট দিয়ে বের হবেন। মাঝখানে কেউ বাধা দিতে গেলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ওসিদের প্রতি নির্দেশ থাকলো, ভোটকেন্দ্রে কেউ ফৌজদারি অপরাধ করলে সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে। এর পাশাপাশি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। অপরাধ বিবেচনায় তারা ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিচার করে সাজা দেবেন। তা না হলে থানায় মামলা হবে। আমরা বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দেব যে, নির্বাচন কমিশনের অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব।’
তিনি বলেন, ‘একটা কথা আছে যে রাতে ভোট হয়ে যায়। তাই এবার ব্যালট যাবে ভোটের দিন সকালে। এই ভোট বাধাগ্রস্ত করতে একটা মহল নানা কর্মকাণ্ড করতে পারে। তাদের মোকাবিলার জন্য পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যদের প্রস্তুত থাকতে হবে। কেউ যেন কোনও ধরনের ব্যাগ কিংবা টিফিন ক্যারিয়ার নিয়ে ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে না পারে।’
ব্রিফিং প্যারেডে আরএমপির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই প্যারেডে দুই হাজার ১৯৫ পুলিশ সদস্য ও এক হাজার ৩৪৪ আনসার সদস্য অংশ নেন। কেন্দ্রে তারা কীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন সে বিষয়ে তাদের দিকনির্দেশনা দেন পুলিশ কমিশনার। পরে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা ভোটকেন্দ্রের দিকে রওনা দেন।
আরএমপির অধীনে এবার চারটি সংসদীয় এলাকা পড়েছে। কেন্দ্র রয়েছে ২১৩টি। এর মধ্যে ২৪টি ছাড়া অন্য সব কেন্দ্রগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রেই ১২ জন করে আনসার সদস্য থাকবেন। আর সাধারণ ভোটকেন্দ্রে তিন জন ও গুরুত্বপূর্ণ ভোট কেন্দ্রে চার জন করে পুলিশ সদস্য থাকবেন।
এ ছাড়া পুলিশের ৪৭টি মোবাইল টিম, ২০টি স্ট্রাইকিং টিম, কুইক রেসপন্স টিম, বোমা ডিসপোজাল ইউনিট কাজ মাঠে থাকবে। এ ছাড়া র্যাবের চারটি দল, সাত প্লাটুন বিজিবি, চার প্লাটুন আনসার ও চার প্লাটুন সেনা সদস্য টহলে থাকবে। মাঠে থাকবেন জুডিশিয়াল এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরাও। শনিবার সকাল থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার দেখা গেছে। শহরের প্রতিটি মোড়ে মোড়েই সেনা সদস্যদের দায়িত্ব পালন করছেন।