নওগাঁর আরেক গুদামে ২৯১ মেট্রিক টন চাল মজুত

আবারও নওগাঁ সদর উপজেলার একটি চালকলের গুদামে অবৈধভাবে ২৯১ মেট্রিক টন চাল মজুত রাখার দায়ে ওই চালকলের মালিককে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পৌরসভার লস্করপুর এলাকায় ঘোষ অটোমেটিক রাইস মিলে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইকবাল হোসাইন এ অভিযান চালান। এ সময় মিলের মালিক দ্বিজেন চন্দ্র ঘোষকে জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, লস্করপুর এলাকার ঘোষ অটোমেটিক রাইস মিলের গুদামে বিপুল পরিমাণ চাল অবৈধভাবে মজুত করা হয়েছে বলে গোপন তথ্য পায় জেলা প্রশাসন। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ওই গুদামে অভিযান চালিয়ে ২৯১ মেট্রিক টন চালের মজুত পাওয়া যায়। অবৈধভাবে চাল মজুতের দায়ে মিলমালিক দ্বিজেন চন্দ্র ঘোষকে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৫৬-এর ১২ ধারায় ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া মজুত করা চাল মঙ্গলবার থেকে সাত দিনের মধ্যে বাজারজাত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাকে।

নওগাঁর জেলা প্রশাসক মো. গোলাম মওলা রাত সাড়ে ৮টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খাদ্যপণ্য মজুত করে মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে। খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিরোধে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে তদারকি অভিযান জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যে ১৫ জানুয়ারি থেকে নওগাঁয় মজুতবিরোধী অভিযান চালানো হচ্ছে। এ ধরনের মজুতদারদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, এ পর্যন্ত নওগাঁয় অবৈধভাবে ধান, চাল, গমসহ অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যপণ্য মজুতের দায়ে ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে ২১ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সবশেষ সোমবার সন্ধ্যায় লস্করপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করে নির্ধারিত সময়ের বেশি সময় ধরে মিলে ২৯১ মেট্রিক টন চাল মজুত রাখা ছিল। এ জন্য মিলের মালিক দ্বিজেন চন্দ্রকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া মজুত করা চাল আগামী সাত দিনের মধ্যে বাজারে ছাড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি নওগাঁর মান্দায় মাসুদ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের গুদামে অভিযানে চালিয়ে ১২৮ মেট্রিক টন গমসহ সয়াবিন তেল, চিনি ও ছোলা অবৈধভাবে মজুত করার দায়ে মাসুদ রানা নামের এক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।