বগুড়ার দুপচাঁচিয়া পৌরসভার মেয়র বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলমের (৪৮) বিরুদ্ধে হাইকোর্টের আদেশ জালিয়াতির মাধ্যমে স্পেশাল জজ আদালতে দুর্নীতি মামলার বিচার কাজ ১০ বছর স্থগিতের অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত দুদকের মামলায় বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) দুপুরে আত্মসমর্পণ করলে ওই আদালতের বিচারক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এ কে এম মোজাম্মেল হক চৌধুরী তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন।
এ মামলার পলাতক অপর আসামিরা হলেন- পৌরসভার সচিব বগুড়া শহরের উত্তর জয়পুরপাড়ার রতন চন্দ্র দাসের ছেলে কার্তিক চন্দ্র দাস ও শিক্ষানবিস আইনজীবী বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার ধাপ সুখানগাড়ি বম্বপাড়ার সোলাইমান আলীর ছেলে আবদুল মজিদ।
আদালত সূত্র জানিয়েছে জানায়, মেয়র জাহাঙ্গীর আলম স্থানীয় সিও অফিস সড়কের আফতাব হোসেনের ছেলে। বেশ কয়েক বছর আগে দুর্নীতির অভিযোগে তিন আসামির বিরুদ্ধে দুদকে মামলা হয়। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জালিয়াতিমূলে হাইকোর্টের ২০১৪৪/২০১০ ফৌজদারি মিস কেসের ভুয়া আদেশ তৈরি করেন। এরপর সেটি বগুড়ার স্পেশাল জজ আদালতে দাখিল করে ওই মামলার বিচার কার্যক্রম ১০ বছর স্থগিত করান। পরে হাইকোর্টের ১১২৮/২০২২ নম্বর রিট পিটিশন মামলার ২০২২ সালের ১৬ মার্চ রায়ের আলোকে আসামিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়।
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার জেনারেলের আদেশে হাইকোর্টের রিট শাখার সুপারিনটেনডেন্ট আবদুল মোমেন মেয়র জাহাঙ্গীর আলমসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে বগুড়ার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলা করেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দুদক বগুড়া কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে দুদক বগুড়া কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক গত বছরের ১৩ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান তিন আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দেন।
সূত্র জানায়, জাহাঙ্গীর আলম বৃহস্পতিবার বগুড়ার স্পেশাল জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। শুনানি শেষে বিচারক নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অপর দুই আসামি দীর্ঘদিন পলাতক রয়েছেন। জাহাঙ্গীর ছয়বার বরখাস্ত ও কয়েকবার জেলে গেলেও উচ্চ আদালত থেকে রেহাই লাভ করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে দুদকের পিপি আনোয়ার হোসেন এবং আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান, সোহেল রানা সজিব ও শফিকুর রহমান মামলা পরিচালনা করেন।