রবিবার দুপুরে মুহূর্তের মধ্যেই মেঘে মেঘে ঢেকে যায় রাজশাহীর আকাশ। পরে বেলা ৩টা ১০ মিনিট থেকে রাজশাহী ও এর আশপাশে আকাশের মেঘগুলো বৃষ্টি হয়ে ঝরে। বৃষ্টি চলে বিকেল ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত।
চারঘাট উপজেলার ভয়ালক্ষীপুর ইউনিয়নের বুদিরহাট এলাকার আমচাষী তরিকুল ইসলাম বলেন, এই শিলাবৃষ্টিতে আমের মুকুল ঝরে গেছে। এতে করে আমের ফলন হওয়ার সম্ভাবনা কমে গেলো।
চারঘাট উপজেলার সদর এলাকার খোরশেদ বলেন, আমার এক বিঘা গম ঝড়ে মাটিতে পড়ে গেছে। ফলে অনেক ক্ষতি হয়ে গেলো, অথচ কয়েকদিনের মধ্যে খেত থেকে গম উঠানোর পরিকল্পনা ছিল।
পবা উপজেলার দর্শনপাড়া এলাকার মিল্টন খন্দকার বলেন, জমি থেকে আলু উঠানোর জন্য গাছ তুলে ফেলা হয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টিতে জমির মাটি ভেজে গেছে। তাই এবার আলুর ক্ষতি হতে পারে।
গোদাগাড়ী উপজেলার কাদিপুর এলাকার কৃষক আজমল হক বলেন, এই ঝড়ে পেঁয়াজ বীজের গাছ নুয়ে পড়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
তানোর উপজেলার মোহনপুর ও চিমনা এলাকার কৃষক কায়কোবাদ বলেন, ঝড়-বৃষ্টি দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। তবে ঝড় হলেও বৃষ্টি তেমন হয়নি। দুই-এক ফোটা বৃষ্টি হয়েছে। এতে তেমন ক্ষতি হবে না। আর কাল (সোমবার) থেকে তাড়াতাড়ি আলু জমি থেকে তুলে ফেলব। কারণ বৃষ্টি হলেই শেষ মুহূর্তে এসে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মনিটরিং অফিসার আহসান হাবীব বৃষ্টি পেঁয়াজ বীজ চাষিদের সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘পেঁয়াজের থোকায় বৃষ্টির পানি পড়লে ফলন অনেকাংশে কমে যেতে পারে।’
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া সহকারী দেবল কুমার মণ্ডল জানিয়েছেন, রাজশাহীতে ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর বাতাসের গতিবেগ ছিল ৪৬ কিলোমিটার।
এদিকে বৃষ্টির সঙ্গে তীব্র বাতাস থাকায় চারঘাট উপজেলার মেরামতপুর এলাকায় একটি মহিষ-গরু বোঝাই ট্র্যাক (ট-১১-০১৪৬) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের ধাক্কা লেগে সামনের দিকটা দুমড়ে-মুড়ড়ে গেছে। খুলনাগ্রামী এই ট্র্যাকের হেলপার সেলিম হোসেন (২৭) আহত হয়েছেন।
এছাড়া রাজশাহী মহানগরীর রেলগেট এলাকায় বাঁশ দিয়ে নির্মিত একটি তোরণ ভেঙে পড়েছে। সেইসঙ্গে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিল। এতে করে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থেমে বিপযস্ত হয়ে পড়ে।
/এএইচ/আপ-এনএস/