জয়পুরহাট মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচন

ব্যালট ছিনতাই মামলায় সভাপতি প্রার্থী গ্রেফতার

গ্রেফতারজয়পুরহাট জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোট কেন্দ্রে হামলা ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের অভিযোগ দায়ের করার মামলায় এক পক্ষের সভাপতি প্রার্থী শ্রমিক নেতা জাহাঙ্গীর চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী গোলাম মর্ত্তুজা শিপলুর বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। তিনি পলাতক রয়েছেন।
গত শনিবার জয়পুরহাট জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন শহরের মুসলিমনগর এলাকার হারাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলাকালে বেলা পৌনে দুটার দিকে কেন্দ্রের দুটি কক্ষে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় পুলিশ ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। হামলায় ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে হামলাকারী বহিরাগত যুবকরা ছিঁড়ে ফেলার পাশাপাশি ভাঙচুর করলে কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত হয়ে যায়। পরে নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং অফিসার কলেজ শিক্ষক তমিজার রহমান জয়পুরহাট সদর থানায় শনিবার রাতে মামলা দায়ের করেন। এতে সংগঠনের এক পক্ষের সভাপতি প্রার্থী জাহাঙ্গীর চৌধুরী  ও তার পক্ষের শ্রমিক মামুনসহ অজ্ঞাত দেড়শ জনকে আসামি করা হয়।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার ছবি বিকৃত করে ফেসবুকে পোস্ট করার অভিযোগে ওই রাতেই জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল হাফিজ সরদার তথ্য প্রযুক্তি আইনে নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে অংশ নেওয়া গোলাম মর্ত্তুজার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলা দুটি দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সিরাজুল ইসলাম জানান, ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের মামলায় শ্রমিক নেতা জাহাঙ্গীর চৌধুরীকে পাঁচবিবির বাসা থেকে রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। হামলার ওই ঘটনার পরপর মামুন নামের এক শ্রমিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য মামলার আসামি শ্রমিক নেতা গোলাম মর্ত্তুজা শিপলুকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। গ্রেফতারকৃতদের রবিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, ভোটকেন্দ্রে হামলার ওই ঘটনায় জাহাঙ্গীর চৌধুরী ও গোলাম মর্ত্তুজা শিপলুকে দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন অন্য সভাপতি প্রার্থী রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী গোলাম মোস্তফা। রবিবার দুপুরে জয়পুরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা এ দাবি জানান। এ সময় সংগঠনের সভাপতি আব্দুল হাফিজ সরদারসহ বেশ কিছু শ্রমিক নেতা উপস্থিত ছিলেন।    

তবে শনিবার ভোট গ্রহণ স্থগিত হওয়ার পর জাহাঙ্গীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, সরকারি দলের প্রভাবশালী এক নেতার নেতৃত্বে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা এবং তার লোকজন ভোট কেন্দ্রে এ হামলা চালিয়ে ভোট বন্ধ করে দিয়েছেন। শান্তিপূর্ণ ওই নির্বাচনে তাদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে হামলার পর সংগঠন নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র করছেন। তিনি সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবি জানান। 

/এমএনএইচ/