সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে ধরতে গিয়ে আসামির পেছনে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে রেজাউল ইসলাম শাহ (৪৫) নামের এক পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহত রেজাউল ইসলাম শাহ রায়গঞ্জ থানার এসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি নওগাঁ জেলার সাপাহার গ্রামের তোজাম্মেল হক শাহের ছেলে।
সোমবার (১৫ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের সরস্বতী নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রায়গঞ্জের এরান্দহ গ্রামে চাচার লাঠির আঘাতে ভাতিজা খুন মামলার ও ডাকাতি মামলার প্রধান আসামি নাজমুল হাসানকে (৩০) গ্রেফতার করতে অভিযানের সময় আসামি সরস্বতী নদীতে ঝাঁপ দেয়। এ সময় এসআই রেজাউল ইসলামও নদীতে ঝাঁপ দেন। কিন্তু আসামি নদী পার হলেও পুলিশ কর্মকর্তা তলিয়ে যায়।
পরে উল্লাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রেজাউল ইসলাম মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল বলেন, সকালে ডাকাতি ও হত্যা মামলার আসামি ধরতে গিয়ে নদীতে অভিযান চালানোর সময় পানিতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ডুবে নিখোঁজ হন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এক ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এখন তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. গোলাম আম্বিয়া বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে লাশ হাসপাতালে রয়েছে।