রাজশাহীতে দফায় দফায় সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৯

রাজশাহীতে কোটাবিরোধী আন্দোলনকে ঘিরে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশসহ কমপক্ষে ৯ জন আহত হয়েছেন। রাজশাহী নগরীতে পুলিশের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুর সোয়া ১টার দিকে নগরীর রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের সামনে এই হামলা চালানো হয়। এতে চার পুলিশ আহত হয়েছেন।

আহতদের যে কয়েকজনের নাম পরিচয় পাওয়া গেছে তারা হলেন আওয়ামী লীগ কর্মী দাশপুকুর এলাকার বাবুর ছেলে নাইম হোসেন (৩৩), পথচারী সৈকত আনসারী (৬৫) কলেজছাত্র মৃদুল হাসান, নাটোরের রাহী, ছাত্রলীগ নেতা সিরাজুম মুবিন সবুজ, পুলিশ পরিদর্শক আলাউদ্দিন (৬০) ও বগুড়ার বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন (৩৫)।

আহতরা সবাই রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফ এম শামীম আহাম্মদ বলেন, ‘আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একদল শিক্ষার্থী লোহার পাইপ, রড, লাঠি হাতে বিক্ষোভ মিছিল করছিল। ওদিক দিয়ে পুলিশের একটি বড় ভ্যান যাওয়ার সময় তারা হামলা চালায়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেন।

শিক্ষার্থীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশও তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিতে লাঠিচার্জ  করে। এতে পুলিশের চার সদস্য ছাড়াও পুলিশের লাঠিচার্জে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।  সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আহতদের মধ্যে দুজনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। আর বাকি দুজনকে পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আন্দোলনকারীরা অতর্কিতে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করতে হয়েছে। হামলায় আমাদের চার পুলিশও আহত হয়। তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।’

জানা গেছে, রাজশাহীতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে ৮-১০টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের আঘাতে রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ডা. সিরাজুম মনির সবুজসহ কমপক্ষে ৫ জন আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে তিন জনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন ডাল ব্যবসায়ী বলে জানা গেছে।

এদিকে, সংঘর্ষের কারণে সাহেববাজার এলাকার দোকানপাট বন্ধ ছিল। তবে শহরে যানবাহন চলাচলও কম রয়েছে। এ ছাড়াও অবরোধের কারণে রাজশাহী থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে আন্তনগর বাস চলাচল করছে। অপরদিকে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বেশির ভাগ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ছেড়ে চলে গেছেন।