সরকার পতনের আন্দোলনে গিয়ে নিখোঁজ মিলনের সন্ধান ছয় দিনেও মেলেনি

সরকারের পতনের দাবিতে ঢাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘লং মার্চে’ গিয়ে নিখোঁজ বগুড়ার সারিয়াকান্দির গার্মেন্ট মেকানিক মনিরুজ্জামান মিলনের সন্ধান ৬ মেলেনি।

তিনি জীবিত আছেন নাকি মারা গেছেন তা কেউ বলতে পারছেন না। তার সন্ধান না পাওয়ায় মা মেরিনা বেগম ও স্ত্রী সবিতা বেগম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ১১ মাস বয়সী মেয়ে মানসুরা তার বাবাকে খুঁজে ফিরছেন। সবাই অশ্রুসিক্ত নয়নে তার পথ চেয়ে আছেন।

সারিয়াকান্দির ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম শিপন ও ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বর মহিদুল ইসলাম জানান, মনিরুজ্জামান মিলন নিখোঁজ হওয়ার আগে মোবাইলে কল করে তার বড় ভাইকে বলেছেন, ছাত্র আন্দোলনে যাচ্ছেন। তিনি মা, স্ত্রী ও মেয়েকে দেখার অনুরোধ জানান। অন্যতম আয়ক্ষম শিপনের সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা চিন্তিত ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পরিবারের সদস্যরা জানান, মনিরুজ্জামান মিলন বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের জোড়গাছা গ্রামের মৃত সুরুজ্জামানের ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি মেজ। তিনি ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার কোরিয়ান ডাইং ইপিজেডে সিনিয়র মেকানিক পদে চাকরি করেন।

বাড়িতে মা মেরিনা বেগম, স্ত্রী সবিতা বেগম, ১১ মাস বয়সী মেয়ে মানসুরা ও বড় ভাই স্থানীয় ভান্ডারবাড়ি সালেহা জহুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সামিউল ইসলাম মিল্টন রয়েছেন।

বড় ভাই সামিউল ইসলাম মিল্টন বলেন, ছোট ভাই মিলন গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশ নেয়। ওই দিন সকাল ১০টা ও বিকাল ৩টায় দুই দফা মোবাইল ফোনে কথা হয়। এ সময় মিলন তাকে বলেন, ‘ভাই আমি স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে অংশ নিয়েছি। মা ও স্ত্রী-সন্তানকে দেখে রেখো’। এরপর থেকে তাকে আর ফোনে পাওয়া যায়নি। এতে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরদিন ৬ আগস্ট সকালে মিলনের খোঁজে ঢাকায় যান। সেখানে পৌঁছার পর আশুলিয়া থানার সামনে আগুনে পোড়া ছয়টি লাশ দেখতে পান। এর ভেতরে ভাইয়ের লাশ শনাক্তের চেষ্টা করেন। সেখানে না পাওয়ায় ঢাকা মেডিক্যাল, পিজি, সোহরাওয়ার্দী, কুর্মিটোলা ও চীন মৈত্রী হাসপাতাল ও মর্গে খোঁজ করেন। কিন্তু পাননি।

সামিউল ইসলাম মিল্টনের ধারনা, আন্দোলনে গিয়ে তার ভাই শহীদ হয়েছেন। অজ্ঞাত হিসেবে তাকে দাফন বা গুম করা হয়েছে। তিনি ভাইয়ের সন্ধান চান। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এদিকে মিলনের সন্ধান না পাওয়া মা মেরিনা বেগম শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, আমি আমার ছেলেকে বুকে ফিরে পেতে চাই।

স্বামীর শোকে পাগলপ্রায় সবিতা বেগম বলেন, স্বামীর আয়ে সংসার চলে। এখন আয়-রোজগার বন্ধ। তিনি বলেন, মিলনকে হারিয়ে আমরা দিশেহারা। ১১ মাস বয়সী মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। স্বামীকে ফিরে পেতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।